আগামী কয়েক বছরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠতে চলেছে ভারত। হ্যাঁ, এমনটাই মনে করছে International Monetary Fund বা IMF। তাদের রিপোর্টে ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোগত সংস্কার এবং বিপুল জনসংখ্যার সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি, আর্থিক বিশ্লেষকরা তালিকার এক নম্বর স্থানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গদি টলমল হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। পাশাপাশি IMF তাদের সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক রিপোর্টে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, চলতি অর্থবছরে ভারতের বৃদ্ধির গড় হার ৬.৬% থাকতে পারে। এটি অবশ্য আমেরিকা, জার্মানি বা চিনের তুলনায় যথেষ্ট বেশি।
https://x.com/IMFNews/status/1978083875642593782
তবে রিপোর্ট এই সুসংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি এক আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সেখানে বলা হয়েছে, যদি বিশ্বের অন্যান্য দেশে বৃদ্ধির হার ধীর হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে একাধিক ক্ষেত্রে। এদিকে বিশ্ব ইকোনমিক আউটলুকের রিপোর্ট বলছে, আগামী দিনে বিশ্বের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ধীর-ই থাকবে। এমনকি, গত বছরের ৩.৩% বৃদ্ধি কমে ৩.২%-এ দাঁড়াবে। তার উপর আমেরিকার শুল্ক নীতি ও বাজারের অস্থিরতা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চাপ বাড়াবে। এমনকি, বাজারের অর্থনৈতিক দুর্বলতা বা আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি বাড়লেও ভারতে বিদেশি বিনিয়োগে টান পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে কি করবে ভারত?
২০২৩ সালে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৮.২% ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে তা ৬.৫%-এ নেমে যায়। এদিকে, আগামী দু’বছর সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেও মনে করেছে IMF। এমতাবস্থায় IMF-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক বৃদ্ধির দিকে নজর না দিয়ে, অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর সংস্কার ও দেশের একাধিক ক্ষেত্রে আর্থিক সঞ্চয় বাড়ানোর দিকে বিশেষ দেখভাল জরুরি। সেই সঙ্গে দেশের সরকারকে বাণিজ্যিক কূটনীতির মাধ্যমে শুল্ক নিয়ে আলোচনা করে বিভিন্ন ধরনের আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে কিছুটা হলেও সুরাহা মিলতে পারে।