ভোট যে দুয়ারে চলে এসেছে, তা তো রাজনৈতিক দলগুলির তোড়জোড় দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। কে, কিভাবে নিজের দলে ভোট টানবেন সেই প্রস্তুতি নিতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। আর এবার প্রচারের ক্ষেত্রে তৃণমূলের পথেই হাঁটলো বিজেপি। তৃণমূল শিবির ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’ ঘোষণা করার পরই বিরোধী প্রচারে শান দিতে ডিজিটাল মাধ্যমকে আরও সক্রিয় করে তুললো গেরুয়া শিবির। যদিও এই প্রথম নয়, ২০১৪ সাল তথা যে বছর প্রথম জাতীয় রাজনীতির ময়দানে নেমেছিলেন মোদী, সে বছরও গেরুয়া শিবিরের ডিজিটাল-প্রচার চোখ কপালে তুলেছিল বিরোধীদের। আর আসন্ন ভোটেও সেটাই হাতিয়ার করলো পদ্ম শিবির।
উল্লেখ্য, দিন ১৫ আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নতুন কর্মসূচির কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছিলেন। যার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’। নেটমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিষেক বলেছিলেন, ‘আমাদের মাতৃভূমি, প্রিয় বাংলার দম্ভ, ঐতিহ্য মিটিয়ে দিতে বহিরাগত বাংলা বিরোধী জমিদার বাহিনী ময়দানে নেমেছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা ছড়াচ্ছে। তাই এবার আমাদেরও ডিজিটাল মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হল। আমাদের উদ্দেশ্য বাংলার সম্মান, অধিকার বজায় রাখা। আর তার জন্য যত দূর লড়তে হয়, আমরা লড়ব। সে কারণেই ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ নামে এই ডিজিটাল কর্মসূচি শুরু করতে চলেছি।’ যদিও তার ডাকে সাড়া দিয়ে খুব কম সময়ের মধ্যেই সদস্য সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছিল। আর এরপরই একই ধরনের কর্মসূচি চালু করল বিজেপি। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নমো যুবা যোদ্ধা’।
এ প্রসঙ্গে পদ্ম শিবিরের শীর্ষ নেতাদের দাবি, ডিজিটাল মাধ্যমে তৃণমূলকে টেক্কা দেওয়ার জন্য নয়, বরং সংগঠনকে আরও মজবুত করতে তারা এই নয়া কর্মসূচির সূচনা করতে চলেছে। গত শনিবার কলকাতার এক নামী প্রেক্ষাগৃহে বিজেপি যুব মোর্চার অনুষ্ঠানে সকল হাই-প্রোফাইল নেতাদের উপস্থিতিতেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘নমো যুবা যোদ্ধা’ পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকবেন যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ। তার এই কর্মসূচির বিষয়ে মন্তব্য, তৃণমূল যেভাবে তরুণদের চাকরি চুরি করেছে, তাতে ওরা ডিজিটালেই থেকে যাবে। কারণ ওরা পথে নামলে, মানুষকে জবাব দিতে হবে। আর সেই উত্তর ওদের কাছে নেই। পাশাপাশি গেরিয়া শিবির এও জানিয়েছে যে, তাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য রাজ্যের নানা সিরিয়াস ইস্যু তুলে ধরে ঘাস-ফুল শিবিরের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও জোরদার প্রচার করা। যদিও এহেন ডিজিটাল লড়াইয়ে বুথস্তরের বিধানসভা ভোটে আরও জোরদার লড়াই হতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।