বাংলায় এখন স্রেফ ভোট পুজোর আবহাওয়া। আর এই আবহাওয়া-তে প্রচারের ময়দানে চলছে লাগাতার কাদা ছোড়াছুড়ি। কারণ হাতে তো বাকি আর মাত্র কয়েক দিন! তবে, এর আগেই এক নয়া বিষয় সকলের নজরে ধরা পড়েছে। হ্যাঁ, নয়া বিষয়ই বটে! আসলে তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের ঢেলে সুরক্ষা দিচ্ছে প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মী, সমর্থক-সহ মোট ৮৩২ জনকে সরকারি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এর জেরে ইতিমধ্যেই ২ হাজার ১৮৫জন পুলিশ নিযুক্ত হয়েছেন। যদিও সূত্র বলছে বিষয়টিকে ত্রুটি হিসেবেই দেখছে নির্বাচন কমিশন। আর সে কারণেই ২-৩দিনের মধ্যে DGP-কে নিরপেক্ষভাবে এই বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শাসক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ৮৩২ জনকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি আরও ১৪৪ জনকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রদান চলবে না। আর সে কারণেই DGP-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সম্পূর্ণ পেশাদার ও নিরপেক্ষভাবে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। আর এই পুরো বিষয়টি যে ন্যায়সঙ্গত ভাবে করা হয়েছে, তাও প্রমাণ করতে হবে। যদিও প্রশাসনিক মহলে, এই নির্দেশের বেশ সুনাম হয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেন, এর জেরে সকল রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে।
এদিকে ইতিমধ্যেই রাজ্যে বিপুল পরিমাণ বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। জায়গায় জায়গায় চলছে নাকা চেকিং। তবে, কমিশনের তরফে এই বাহিনী প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, ভোট মিটলেও বাংলায় প্রায় ৫০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তার আগে অর্থাৎ গণনা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে অতিরিক্ত ২০০ কোম্পানি মোতায়েন থাকবে। মূলত পশ্চিমবঙ্গে ভোটপরবর্তী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আসলে ভোট পরবর্তীতেও যে হারে হিংসার ঘটনা ঘটে, তা বে-নজির। তাই সেই সকল বিষয়কে ঠান্ডা রাখতে এবং যথোপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নিতেই মোতায়েন থাকবে এই বিপুল সংখ্যক বাহিনী।
অন্যদিকে, SIR ও অফিসারদের বদলি নিয়ে গলা চড়িয়েছে শাসক শিবির। তবে ইতিমধ্যেই কমিশন জানিয়েছে, SIR শুরুর আগে থেকে ভোট ঘোষণা পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৩৭০জন আধিকারিকের বদলি হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পাল্টা দাবি, সরকার IAS, IPS, WBCS, WBPS অফিসারদের ব্যাপক বদলি করে। যার জেরে প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আর এই বিষয়টি নজরে আসতেই ন্যূনতম বদলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে দাবি করেছে কমিশন। তবে, এসবের মাঝেও নিরাপত্তা নিয়ে কমিশনের নয়া নির্দেশে এটুকু বোঝা গিয়েছে যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর। কারণ বারবার তাদের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ভোটের মাঠে যে কোনো ধরনের অনিয়ম, পেশি শক্তির ব্যবহার বা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হলে তার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে নিরপেক্ষ এবং আপসহীন হওয়ার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমানে জন মনে আস্থার সঞ্চার করেছে। কারণ প্রতিটি ভোটার নির্ভয়ে যাতে কেন্দ্রে এসে নিজের পছন্দমতো ভোট দিতে পারেন, এবারের নির্বাচনে সেটাই কমিশনের কাছে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পেয়েছে। তাছাড়া। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ফলে কমিশনের এই দৃঢ় অবস্থান এবং মাঠপর্যায়ে তার সঠিক প্রতিফলন একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে বলেই মনে করছেন বহু মানুষ। আর একটি সফল নির্বাচন কেবল যে কমিশনের একার দায়িত্ব নয় তাও সত্যি। তবে, তাদের এই পদক্ষেপে কতটা একতা বজায় রাখে প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক দল, সেটাই এখন দেখার