বাংলায় এখন ভোটের আবহ। কারণ দুয়ারে এসে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। যার জেরে রোদ-বৃষ্টি সব কিছুকে ‘কুছ পরোয়া নেহি’ বলে প্রচারের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সকল রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। এদিকে শুরু হয়ে গিয়েছে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াও। ইতিমধ্যেই বহু প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে দিয়েছে। সেই মতো নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদারও চলতি সপ্তাহের শুক্রবার বারুইপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়েছিলেন মনোনয়ন পত্র জমা দিতে। আর সেখানেই ঘটে বিপত্তি! বলে রাখা ভালো, রাজন্যা হালদারের নাম এবারের নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ ও আসানসোল দক্ষিণ—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। আর এরপরই তিনি প্রস্তুতি নেন মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার।
উল্লেখ্য, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় নমিনেশনের সঙ্গে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিপত্রও জমা দিতে হয়। কিন্তু রাজন্যা বারুইপুর মহকুমা শাসকের দফতরে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে গেলে তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কিছু অসঙ্গতি নজরে পড়ে। যার জেরে মনোয়ন পত্র জমা দেওয়ার বদলে তাকে খালি হাতেই ফিরতে হয়। অবশ্য তার এই সমস্যায় পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন খোদ নেত্রীও। তিনি জানান, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কিছু কাগজের জটিলতা ও প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকার কারণে তিনি নমিনেশন জমা দিতে পারেননি। তিনি এও জানান যে, দফতরের আধিকারিকরা তাকে সাহায্য করার পাশাপাশি সমস্যা মেটানোর পথও দেখিয়েছেন।
এদিকে তার এই ব্যাঙ্কের ত্রুটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তার নথিতে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তাকে আবারও সবটা সংশোধন করে জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কিনা। প্রসঙ্গত, আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হওয়া এবং ‘তিলোত্তমা’দের নিয়ে শর্ট ফিল্ম তৈরি করে রাজন্যা সে সময় দলের রোষের মুখে পড়েছিলেন। এর জেরে তাকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভানেত্রী পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু সাসপেনশনের পরও ওই নেত্রী নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। তবে, এই কারণে তিনি একাই সাসপেন্ড হননি, তার সঙ্গে সংগঠনের তৎকালীন রাজ্য সহ-সভাপতি প্রান্তিক চক্রবর্তীকেও সাসপেনশন চিঠি ধরানো হয়েছিল। আর এরপর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে বর্তমানের নির্দল প্রার্থীর।
যদিও গত বছরের শেষের দিকে শোনা যাচ্ছিল, তিনি নাকি বিজেপিতে যোগ দান করতে চলেছেন। কিন্তু সে জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি ভোটের ময়দানে নামেন নির্দল প্রার্থী হিসেবেই। এমনকি, ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’র পক্ষ থেকে তার নাম ঘোষণার পরই তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, তিনি কোনও দলের নয়, মানুষের জন্য লড়তে চান। অন্যদিকে, পুরুলিয়ার মানবাজারের CPIM প্রার্থী সোনামনি টুডু-কে কলকাতার হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। কারণ তার ST সার্টিফিকেট ঝাড়খণ্ড থেকে পাওয়া গিয়েছে। আসলে তিনি বিয়ের পর পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে এলেও পশ্চিমবঙ্গ থেকে তার ST সার্টিফিকেট নেই। আর সে কারণেই আদালত শর্ত দিয়েছে, রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীর ST শংসাপত্রের নথি রয়েছে কিনা তা বিবেচনা করে তারপরই মনোনয়নের বৈধতা দেবে। ইতিমধ্যেই এর দিনক্ষণ ঠিক করে দিয়েছে আদালত। তবে, তিনি সে সকল শর্ত মেনে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেন কিনা, এখন সেটাই দেখার।