সামনে এল অযোগ্যদের তালিকা! প্রার্থীর তালিকায় নাম রয়েছে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের!

SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সাত দিনের মধ্যে চিহ্নিত ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। তার আগেই সামনে এল অযোগ্যদের তালিকা। যেখানে লিস্টে থাকা নাম দেখে কার্যত হতবাক কমিশন থেকে আমজনতা সকলে। পাশাপাশি ফাঁস হওয়া ওই তালিকা দেখে বিতর্কের ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ অযোগ্যদের এই তালিকায় কিনা নাম খুঁজে পাওয়া গিয়েছে শাসক দলের একাংশের! আর এরপরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার হুঙ্কার দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

জানা গিয়েছে, নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দাগির প্রার্থীর সংখ্যা ৯৯৩ জন এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দাগি প্রার্থীর তালিকায় নাম রয়েছে ৮১০ জনের। যার মধ্যে মধ্যে নবম দশমে OMR শিট জালিয়াতি করে চাকরি পেয়েছেন ৮০৮ জন। সেই সঙ্গে rank জাম্প করে চাকরি পাওয়া প্রার্থী রয়েছেন বহুজন। আর এই সবাইকে মিলিয়ে হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন মতো রয়েছেন। আর এই প্রার্থীদের মধ্যে কিনা নাম রয়েছে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির! এমনকি, এক বিধায়কের মেয়ে এবং তৃণমূলের এক পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের ছেলের নামও রয়েছে এই তালিকায়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে SSC-র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, শনিবারের মধ্যেই অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ হতে পারে। সেই মতো শনিবার সকালেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করার আগেই ফাঁস হয়ে গেল সেই তালিকা। যেখানে উঠে আসা বেশ কিছু নাম অবাক করছে সকলকে। প্রসঙ্গত, আগামী ৭ ও ১৪ই সেপ্টেম্বর ফের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে SSC কমিশন। তবে, অযোগ্যরা কেউ এই পরীক্ষায় বসতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বলে রাখা ভালো, এই পরীক্ষা ঘোষণার পর চাকরিহারা প্রার্থীদের তরফে কিছুজনের দাবি ছিল, প্রায় এক দশক আগে তারা পরীক্ষা দিয়ে যোগ্য বলে বিবেচিত হয়ে ছিলেন। ফলে নতুন প্রজন্মের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে একই মঞ্চে প্রতিযোগিতায় নামলে তাদের সুযোগ কমবে, তাই তাদের জন্য যেন আলাদা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও বিচারপতি সঞ্জয় কুমার সেই আর্জি নাকচ করে দিয়ে জানান, যোগ্য প্রার্থীরা বয়সে ছাড় পাচ্ছেন, সেই সঙ্গে অভিজ্ঞতার সুবিধা রয়েছে, তাই পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে একসঙ্গেই অনুষ্ঠিত হবে। এখন দেখার, আসন্ন এই পরীক্ষাতে কতজন সঠিক ভাবে উত্তীর্ণ হতে পারেন। নাকি, এখানেও চলে জালিয়াতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *