ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। ফলে সকল রাজনৈতিক দলগুলি নিজের নিজের মতো করে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। আর প্রস্তুতি মানেই সে-ই একে অপরকে কটাক্ষ, কটূক্তি। তবে, এবার শাসক দলের পোক্ত ঘাঁটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে এক নয়া ছক কষেছে গেরুয়া শিবির। শোনা যাচ্ছে, দমদম, বারাকপুর, নন্দীগ্রাম ও কোচবিহারে তৃণমূলের ফল উলটে দিতে চাইছে বিজেপি। কারণ এই ‘সুইং সিট’গুলির ফল ঠিক করতে পারলেই নাকি বাংলার ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি না হলেও বেশিরভাগটাই বদলে যেতে পারে।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ ব্লু-প্রিন্ট থেকে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৬২টি ‘ক্যাটাগরি এ’ আসনে বিজেপি নিজেদের জয়ের প্রবল সম্ভাবনা দেখছে। তবে, তৃণমূলের মজবুত ভিত নাড়িয়ে দিতে তাদের বিশেষ কিছু কৌশলগত আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে বলেও মনে করছে। যার মধ্যে রয়েছে ২০২১-এর ভোটে জেতা তৃণমূলের সেই ৫৭টি আসন। পরিসংখ্যান বলছে, তার মধ্যে ১৯টি আসনে ঘাস-ফুল শিবিরের ব্যবধান ছিল ৩,০০০-এরও নিচে। যার মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে ব্যবধান ছিল মাত্র ৬২৩ ভোট, বর্ধমানের কুলটিতে ব্যবধান ছিল ৬৭৯ ভোট। বিশেষজ্ঞ মহল বলছে, বারাসাত, হাবরা, বনগাঁ, অশোকনগর, ঘাটালের মতো আসনগুলিতে বিজেপি যদি থাবা বসাতে পারে, তাহলে বাংলায় তাদের হয় কিছুটা হলেও নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর ও মন্ত্রী শশী পাঁজার কেন্দ্র শ্যামপুকুরে তৃণমূলের ক্ষমতা আগের থেকে অনেকটাই কমে গিয়েছে। আর এই সব কিছুর পিছনে মূল কারণ রেশন, চাকরি-সহ নানা দুর্নীতির ঘটনা।
তবে, শুধু এটুকুতেই যে বাংলায় পদ্ম ফুটতে চলেছে তেমনটা নয়। বরং, তাদের জয়ের ব্লু-প্রিন্টে মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ক-ও এক বড় অবদান রাখতে চলেছে। কারণ এই সম্প্রদায়ের অধীনেই রয়েছে প্রায় ৩০টি আসন। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স এলাকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তো বর্তমানে মতুয়াদের নাগরিকত্ব কার্ড ও CAA ইস্যু-কে হাতিয়ার করে নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহারের আসনগুলিতে থাবা বসাতে উঠে-পড়ে লেগেছে গেরুয়া শিবির। পাশাপাশি জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামের আসনগুলো ফের নিজেদের অধীনে আনতেও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বিজেপি।
অর্থাৎ, সব মিলিয়ে এখন শাহের নেতৃত্বে বঙ্গ বিজেপি বেশ হিসেব কষেই পা ফেলতে চলেছে। আর সে কারণেই শুভেন্দু অধিকারী থেকে দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদারের মতো নেতাদের আঞ্চলিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে। এদিকে SIR এর জেরে বহু অবৈধ ভোটারের নাম বাতিল হয়েছে। ফলে এটিও গেরুয়া শিবিরের জন্য একটি আশীর্বাদ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ দাবি করেছেন। তাছাড়া, সংখ্যালঘুদের তরফেও ভোট পাওয়ার একটি প্রবণতা দেখা গিয়েছে। তাই এই সকলের সহযোগিতায় ভোট বাক্সের ফলাফল জয়ী হতে পারে কিনা বিজেপি, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায়।