Who is set to ascend the throne of Bengal

বাংলার মসনদে কে বসতে চলেছেন? উত্তর দেবে এই ৫ কেন্দ্রের ফলাফল!

ভোটে কে জিতবে আর কে জিতবে না, এই নিয়ে আজকাল লাগাতার চলছে তর্ক-বিতর্ক। যদিও স্বাধীনতার পর থেকে বাংলার রাজনীতির ওপর দিয়ে বহু জল বয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস থেকে বাম, আর তারপর ৩৪ বছরের শাসনকালের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সাল থেকে এক টানা ১৫ বছর বাংলার মসনদে আসীন রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, চলতি বছরে রয়েছে সরকার বদলের ভোট। না, সরকার বদলাবে কিনা, তা ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরই জানা যাবে। তবে, ২৬-এর নির্বাচন নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বিভিন্ন মহলে। যদিও বর্তমানে শাসক দলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বিরোধী শিবির বিজেপি। আর সে কারণেই মূল ৫টি কেন্দ্রে নজর রাখছে বিশেষজ্ঞ মহল। কোন কেন্দ্রগুলি বর্তমানে এত গুরুত্ব পাচ্ছে?

* লিস্টের প্রথমেই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর গড় ভবানীপুর। এক কথায়, আসন্ন ভোটের সবথেকে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র এটি-ই। কারণ এবার বাংলায় নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে বিজেপি এক অন্য ছক কষেছে। আর সে কারণেই এই কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিপক্ষে পদ্ম শিবিরের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন খোদ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাই এবার দেখার, নন্দীগ্রামের পুরোনো সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ভবানীপুরেও হয় কিনা।

* তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নন্দীগ্রাম। কারণ ২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই কেন্দ্রেই গো-হারা হারিয়েছিলেন। আর এবারও এই কেন্দ্রে গেরুয়া ঝড় তোলার দায়িত্ব পড়েছে তার-ই ওপর। তবে, এবার তার বিপক্ষে রয়েছে শুভেন্দুর-ই এক সময়ের ঘনিষ্ঠ তথা প্রাক্তন বিজেপি নেতা পবিত্র কর। বলা ভালো, নন্দীগ্রাম পুনরুদ্ধার করতে তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

* কলকাতার আরও একটি হাইভোল্টেজ কেন্দ্র যাদবপুর। যেটিকে বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র আন্দোলনের পীঠস্থান বললেও, কিছু ভুল বলা হবে না। যদিও ২০১১ সালে বাম শাসনের পতন পর ২০১৬-তে সুজন চক্রবর্তী এই আসনটি পুনরুদ্ধার করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সে কেন্দ্রের বিধায়ক তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদার। তবে এবারের ভোটে এই কেন্দ্রের লড়াই একটু হলেও কঠিন হতে চলেছে। কারণ সিপিএম এখানে প্রার্থী করেছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে। আর তাই বামেদের হারানো জমি মানে যাদবপুর তারা ফের ফিরে পেলে রাজ্যে আরও একবার লাল শিবিরের পুনরুত্থানের পথ প্রশস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

* মুর্শিদাবাদ সদর আসনও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কারণ এটি একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। যদিও এখন এই কেন্দ্রে বিজেপি-র দখলে। বর্তমানে এখানকার বিধায়ক বিজেপি-র গৌরীশঙ্কর ঘোষ। তবে, এবারের ভোটে তার বিরুদ্ধে তৃণমূলের তুরুপের তাস শাওনী সিংহ রায়। তিনি এর আগে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন, কিন্তু এবার তিনি ঘাসফুল শিবিরের ভরসা। অন্যদিকে, কংগ্রেস এই কেন্দ্রে সিদ্দিকি আলি-কে প্রার্থী করে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের লড়াই লড়ছে। ফলে এখানে ভোটাভুটির লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসতে চলেছেন, তা বেশ আকর্ষণীয়।

* ২৬-এর নির্বাচনে রেলের শহর খড়গপুরেও দুই প্রভাবশালী নেতার লড়াই দেখতে চলেছে সেখানকার ভোটাররা। কারণ একদিকে বিজেপি-র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ নিজের পুরনো কেন্দ্র ফিরে পেতে লড়ছেন। আর অন্যদিকে রয়েছেন তৃণমূলের ভরসা প্রদীপ সরকার। যদিও গত উপ-নির্বাচনে বিজেপি-র হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে আসন ছিনিয়ে নিয়েছিলেন প্রদীপ। আর এবার নিজেদের অবস্থান আবারও ফিরিয়ে আনতে পারেন কিনা দিলীপ ঘোষ সেটাই এখন দেখার। যদিও ইতিমধ্যেই প্রচার ময়দানে জোরদার গলা ফাটাচ্ছেন তিনি। তবে। খড়গপুরের ‘দাদা’ কে হবেন, তা তো আগামী ৪ঠা মে-ই জানা যাবে। আর এই ৫টি আসনের রেজাল্ট-ই বলবে বাংলার মসনদে কে বসতে চলেছেন। এ বিষয়ে আপনার কি মনে হয়? মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *