রাজনীতির ময়দানে তিনি বরাবরই চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। তবে রাজনীতির বাইরে তাঁর আয়, সম্পত্তি আর হলফনামার তথ্য নিয়েও কৌতূহল কম নয়। রাজ্যের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী মুখ শুভেন্দু অধিকারী। তবে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়েই সীমাবদ্ধ নন তিনি। হলফনামা অনুযায়ী, রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর আয়ের উৎসও একাধিক। নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করলেন সেই সবকিছু। সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া বিচারাধীন ২৫টি ফৌজদারি মামলার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরলেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার হলদিয়ায় গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এদিন রথের আদলে তৈরি ট্রাকে শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষও। তাঁর দেওয়া হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে বিচারাধীন ২৫টি ফৌজদারি মামলার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের অধীনে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে রয়েছে ২৫টি ফৌজদারি মামলা। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে এমনই একটি রিপোর্ট জমা দেন রাজ্য পুলিশের ডিজি।
এর আগেও কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর নামে সাতটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। হলফনামায় মানহানি, অর্থ পাচার, উস্কানি দেওয়া এবং দাঙ্গার মতো অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে। প্রায় কুড়িটি পাতা জুড়ে রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মামলার কথা। যার মধ্যে একাধিক কেস এখন লোয়ার কোর্টে চলে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী তাঁর হলফনামায় ঘোষণা করেছেন, তিনি কোনও মামলাতেই দোষী সাব্যস্ত হননি। দায়ের করা মামলার অধিকাংশই গ্রামীণ নির্বাচনী এলাকা ও জেলাগুলিতে।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোতে সাম্প্রদায়িক হিংসার চেষ্টা, খুনের চেষ্টা এমনকী পকসো কেসও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও তাঁর মনোনয়ন হলফনামায় শুভেন্দু নিজেকে একজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর আয়ের উৎস হিসেবে বিধায়ক বেতন, সাংসদ পেনশন ও ব্যবসাকে তালিকাভুক্ত করেছেন। তাঁর মোট বার্ষিক আয় হিসেবে তিনি জানিয়েছেন ১৭,৩৮,৫০০ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে জমি, বাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদ। অন্যদিকে অস্থাবর সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাঙ্কের আমানত, এবং বিনিয়োগ। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণও বেশ উল্লেখযোগ্য।
রাজনীতির ময়দানে লড়াই যেমন তীব্র, তেমনই ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য নিয়েও মানুষের আগ্রহ কম নয়। কারণ, জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের নির্ঘণ্ট আগেই ঘোষণা হয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবং দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ হল আগামী ৬ এপ্রিল। জানা গিয়েছে, আগামী ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারী মনোনয়ন পেশ করার কথা।
বিজেপি সূত্রের দাবি, সে দিন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পাশে নাকি দেখা যেতে পারে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। যদিও এখনও বিজেপি-র তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে শাহের সফরসূচি সম্পর্কে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু শাহ যদি শুভেন্দুর মিছিলে থাকেন তাহলে এক কথায় বলাই যায় যে ভবানীপুরের লড়াই নিঃসন্দেহে আরও বড় মাত্রা পাবে।