জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের আবহেই পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বড় দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পুলিশ স্মরণ দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন পর বাংলায় প্রাণহানি ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের সময় নিরাপত্তাবাহিনীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে নির্বাচনী হিংসা মোকাবিলার পর পশ্চিমবঙ্গেও নিরাপত্তাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভোটপর্ব চলাকালীন একটিও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনী হিংসা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাবাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরতেই এই তথ্য সামনে আনেন তিনি।
তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নয়, এদিনের বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি। ২০২৬ সালকে ভারতীয় পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের নিরাপত্তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকা মাওবাদী সমস্যার অবসান হয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ ভারত মাওবাদী সমস্যার কবল থেকে মুক্ত হয়েছে। ১৯৮১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এই সমস্যার কারণে দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই সময়ের মধ্যে মাওবাদী হিংসায় ৩৬০০-রও বেশি নিরাপত্তাকর্মী শহিদ হয়েছেন এবং প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শহিদ নিরাপত্তাকর্মীদের পরিবারের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
শাহের বক্তব্য, পাঁচ দশকের পুরনো এই সমস্যাকে পিছনে ফেলে দেশ এখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। সেই অগ্রগতির পিছনে নিরাপত্তাকর্মীদের আত্মত্যাগের বড় ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁদের আত্মবলিদান দেশ কখনও ভুলবে না বলে বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পুলিশ স্মরণ দিবসের ইতিহাসও এদিন তুলে ধরেন অমিত শাহ। ১৯৫৯ সালের ২১ অক্টোবর লাদাখের হট স্প্রিংস এলাকায় চিনা সেনার হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে CRPF-এর ১০ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণেই প্রতি বছর ২১ অক্টোবর পুলিশ স্মরণ দিবস পালন করা হয়।
এদিন দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ক্ষেত্র—কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বামপন্থী উগ্রপন্থা প্রভাবিত এলাকা নিয়েও বক্তব্য রাখেন শাহ। তাঁর দাবি, এই তিন ক্ষেত্রেই বর্তমানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতিতে বাহিনীর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এর পাশাপাশি মাদকবিরোধী লড়াই নিয়েও বড় লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী তিন বছর কাজ করতে হবে। মাদক পাচার এবং অপব্যবহার রুখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তাও দেন তিনি।
সব মিলিয়ে বাংলার নির্বাচন থেকে শুরু করে মাওবাদী সমস্যা, কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তা এবং মাদকবিরোধী অভিযান—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এল অমিত শাহের বক্তব্যে। আর বাংলার নির্বাচন নিয়ে তাঁর করা প্রাণহানিহীন ভোটের দাবি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
