প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর মৃত্যুর বিভীষিকাময় অন্ধকারের বুক চিরে জন্ম নিল এক পরম অলৌকিক সত্য! চরম দুর্যোগের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যদি ভক্তি আর আত্মত্যাগের শক্তি অটুট থাকে, তবে ঈশ্বর স্বয়ং যে তাঁর ভক্তকে রক্ষা করেন— কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর পুণ্যলগ্নে নেপালের মাটিতে ঘটে যাওয়া এই অলৌকিক ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ! ভয়াবহ হড়পা বানে নেপালের ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে টানা ৯ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলো দুই সাহসী শ্রমিককে।
সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, গত সপ্তাহে যখন পাহাড়ি টানেলে বিধ্বংসী হড়পা বান আছড়ে পড়ে, তখন মাধেশ প্রদেশের মেকানিক্যাল ফোরম্যান ৩০ বছরের সঞ্জয় শাহ কন্ট্রোল রুমে কাজ করছিলেন। বিপর্যয় ঘটামাত্রই তিনি চাইলে নিজের জীবন বাঁচিয়ে একাই টানেল থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু চরম বিপদের মুখে নিজের সুরক্ষার কথা না ভেবে, অন্য সমস্ত সহকর্মীদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। সবাইকে বাঁচিয়ে নিজে যখন বের হতে যাবেন, ঠিক তখনই জলের তোড়ে বন্ধ হয়ে যায় টানেলের মুখ!
মৃত্যুর হিমশীতল অন্ধকারের মধ্যে সম্পূর্ণ খাবার ও আলো ছাড়া একটানা ৯টি দিন টানেলের এক কোণে আটকে ছিলেন সঞ্জয়। কিন্তু জীবনের আশা ছাড়েননি তিনি! চরম সংকটের মুহূর্তে মনকে শান্ত রাখতে ও শক্তি পেতে অবিরাম জপ করে গিয়েছেন সনাতনী ‘হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র’! আর ঠিক কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর শুভ সকালেই মিলল সেই অলৌকিক কর্মফল! নেপাল সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল অলৌকিকভাবে তাঁকে ও মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবীর মহাজনকে জীবিত অবস্থায় টানেল থেকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার পাওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সঞ্জয় জানান— টানেলের অন্ধকারে কেবল হরেকৃষ্ণ নামই তাঁকে বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছে। নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে অন্যদের প্রাণ বাঁচানোর এই মহৎ দৃষ্টান্ত এবং চরম মুহূর্তে ভগবানের ওপর এই অচলা ভক্তি আজ কোটি কোটি সনাতনীর হৃদয় স্পর্শ করেছে। উদ্ধার পাওয়া কবীর মহাজনের স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছেন— আজ স্বয়ং ভগবান এবং সেনার আন্তরিক চেষ্টাতেই তাঁর স্বামী মৃত্যুর মুখ থেকে দ্বিতীয় জীবন নিয়ে ফিরে এলেন। টানেলের ভেতরে আটকে থাকা বাকিদের উদ্ধারে এখনও সেনা অভিযান জারি রয়েছে।
