শারদোৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার পর এবার রাজ্যের মা-বোনেদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর নিয়ে এলো নবান্ন! বাংলায় পালাবদলের পর মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র হাত ধরে ইতিমধ্যেই প্রতি মাসে সরাসরি ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ পরিবার। কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরে এই প্রকল্পে নতুন করে নাম নথিভুক্তকরণের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় যাঁরা আবেদন করতে পারেননি, কিংবা ফর্ম জমা দিয়েও নানা কারিগরি ত্রুটির কারণে যাঁদের নাম বাদ পড়েছিল— পুজো শেষ হতেই তাঁদের সেই সমস্ত দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিরাট ঘোষণা করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী! আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস থেকেই রাজ্যজুড়ে ফের নতুন করে শুরু হতে চলেছে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়া।
সরকারি পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে— এই সামাজিক প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি যোগ্য মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে যাচ্ছে মাসিক ৩,০০০ টাকার সরাসরি সাহায্য। সংসারের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে এবং মহিলাদের নিজের পায়ে দাঁড় করাতে এই মেগা প্রকল্প গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র জমা পড়ায় প্রতিটি নথির স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই বা ভেরিফিকেশনের স্বার্থে বিগত কিছুদিন ধরে অনলাইন পোর্টাল এবং অফলাইনে নতুন আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছিল রাজ্য সরকার।
এর ফলেই রাজ্যের একাধিক জেলায় দেখা দিচ্ছিল নানা বিভ্রান্তি। কোথাও কোথাও নথি যাচাইয়ে ত্রুটি বা সার্ভার সমস্যার কারণে যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া অর্থ না ঢোকায় মহিলাদের একাংশের ক্ষোভ ও বিক্ষোভের ছবিও সামনে এসেছিল। বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর বা বিডিও অফিসের সামনে দীর্ঘ লাইন ও ক্ষোভের পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে এবং কোনো প্রকৃত যোগ্য মহিলা যাতে এই ঐতিহাসিক সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে এবার মাঠে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি সাফ জানিয়েছেন— যোগ্য মহিলাদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস জুড়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিশেষ জনকল্যাণমূলক শিবির ও ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। যেখানে গিয়ে সাধারণ মহিলারা সরাসরি অফলাইনে ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। পাশাপাশি, যাঁরা ঘরে বসে আবেদন করতে চান, তাঁদের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোর্টালটিও পুনরায় পুরোপুরি সচল করে দেওয়া হবে। ফলে এতদিন যাঁরা নাম তুলতে পারেননি, কিংবা যাঁদের নথিতে সংশোধনীর প্রয়োজন ছিল, তাঁরা অত্যন্ত মসৃণভাবে এই নতুন দফায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শিবিরগুলির সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এবং ব্লকে ব্লকে ক্যাম্পের সময়সূচি নিয়ে খুব শীঘ্রই তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর থেকে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা জারি করা হবে। উৎসবের মরশুম শেষ হতে না হতেই মা-বোনেদের জন্য নবান্নের এই দ্রুত পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিল— সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিশ্রুতিতেই কালক্ষেপ করতে রাজি নয় বর্তমান প্রশাসন!
