২৩শে এপ্রিল বাংলায় অনুষ্ঠিত হল প্রথম দফার ভোট। তবে, ভোটের আগেই SIR-এর জেরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে বহু মানুষের। ফলে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। এদিকে আবার একাধিক জীবিত ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে, কিছুক্ষেত্রে নাম নকল হওয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তো কিছু ভোটারের নথিপত্র অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ এবারের ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। যদিও রিপোর্ট বলছে, পশ্চিমবঙ্গে SIR সম্পন্ন হওয়ার পর মোট ৯০.৬৬ লক্ষ থেকে ৯১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। অর্থাৎ, যেখানে প্রাথমিকভাবে ভোটার সংখ্যা ছিল ৭.৬৬ কোটি, সেখানে রয়েছেন প্রায় ৬.৭৫-৬.৭৭ কোটি।
না, সব নাম একেবারে বাদ পড়েনি! কয়েক দফায় এই বিপুল নামের বাদ হয়েছে। প্রথমে গত বছর ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৫.৮২ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খসড়া এবং চূড়ান্ত তালিকার মধ্যে অতিরিক্ত ৫.৪৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিচারের নিষ্পত্তির পর অতিরিক্ত ২৭.১৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয় এবং ৬০ লক্ষেরও বেশি মামলার তদন্ত করা হয়েছিল। আর এই সব মিলিয়ে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তবে, এই নাম বাদ পড়া ভোটারদের কেউই প্রথম দফার ভোট দিতে পারবেন না। কারণ নির্বাচন কমিশন গত ৯ই এপ্রিল প্রথম দফার আসনগুলির জন্য ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে দিয়েছে।
বলে রাখা ভালো, SIR-এ নাম বাদ দেওয়ার কিছু অযাচিত কারণ ছিল ছোটখাটো ভুল। যার মধ্যে বাংলা নামের বানান ভুল, বাবা-মায়ের বয়স ১৬ বছরের কম হওয়া, পাঁচজনের বেশি ভাই-বোন থাকা ইত্যাদি। আসলে একটি AI টুল ব্যবহার করে এই অসঙ্গতিগুলো যাচাই করা হয়েছিল। ফলে এমন নানা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আর এর কারণেই মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর ২৪ পরগনার মতো মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদে ৪.৬ লক্ষ এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ৩.৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। যার মধ্যে সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে, ৬৩% হিন্দু এবং ৩৪% মুসলিম রয়েছেন। জানলে অবাক হবেন, বহু বছর ধরে ভোট দিয়ে আসা বহু প্রবীণ ভোটারদেরও নাম বাদ দেওয়া পড়েছে এই প্রক্রিয়ার জেরে।
যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাটিকে মোটেও ভালো চোখে দেখেননি। তাদের দাবি, এমন প্রক্রিয়া আদতে “সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব হত্যা” করা। তাছাড়া, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে ‘সাংবিধানিক অপরাধ’ এবং ‘গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে বিজেপি সেভাবে মুখ না খুললেও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, এটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘পরিচ্ছন্ন ভোটার তালিকা’-র জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। তবে এ কথা সত্যি যে, প্রথম দফার ভোটে নাম বাদ পড়ার ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতার সামনে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যা কেবল প্রযুক্তিগত ভুল নয়, বরং গণতান্ত্রিক কাঠামোর একটি বড় বিচ্যুতি বললেও ভুল বলা হবে না।