40% of Excluded Voters in Bhabanipur Are Muslim: Sensational Data Emerges

ভবানীপুরে বাদ পড়া ভোটারদের ৪০% মুসলিম, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকেই সকলের নজর ছিল ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে। যদিও সে নজর এখনও সরেনি! কারণ এই কেন্দ্রে আবারও দেখা মিলতে চলেছে নন্দীগ্রামের পুরোনো সেই লড়াই। তবে, ভোটাভুটির লড়াইয়ের আগেই সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা বাংলার রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার সৃষ্টি করেছে। প্রথমেই মনে করিয়ে দিই, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। যেখান থেকে নাম বাদ গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ভোটারের। আর এবার ফের একবার তা নিয়েই নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে জানা গিয়েছে, ভবানীপুরে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১,৫৯,২০১ জন। যার মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ বাঙালি হিন্দু, ৩৪ শতাংশ অ-বাঙালি হিন্দু এবং প্রায় ২৪ শতাংশ ভোটার মুসলিম ছিলেন। কিন্তু SIR-এর জেরে নাম বাদ পড়ার তালিকায় অন্য কিছু ধরা পড়েছে। হ্যাঁ, নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের পর মোট ৩,৮৭৫ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যার মধ্যে ১,৫৫৪ জন মুসলিম এবং হিন্দু, জৈন ও শিখ-সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের ২,৩২১ জনের নাম রয়েছে। আর এখানেই সমস্যার তৈরি! কারণ সংখ্যার বিচারে অ-মুসলিমদের সংখ্যা বেশি হলেও, জনসংখ্যার অনুপাতে অনেকটাই বেশি মুসলিম ভোটারদের বাদ পড়ার হার। ফলে বর্তমানে এই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রথম প্রকাশিত খসড়া তালিকায় প্রায় ৪৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ার খবর সামনে এসেছিল। পরে অবশ্য চূড়ান্ত তালিকায় সেই সংখ্যা কমে গিয়েছিল। পাশাপাশি বহু নাম ‘নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া’র আওতায় ছিল। যেগুলি স্রেফ বানানের সামান্য ভুল বা পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি, এমন অস্পষ্ট কারণ দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই যুক্তি সেভাবে কার্যকরী হয়নি। বরং, নন্দীগ্রামের উদাহরণ সামনে আসার পর এই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আরও বেড়েছে। দাবি করা হয়েছে, সে কেন্দ্রের নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ২,৮২৬ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯৫.৫ শতাংশ-ই মুসলিম ভোটার। আর এবার ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটারদের নিয়ে শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ। বলা ভালো, ভোটের আগে SIR প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটার তালিকা এক বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।

প্রসঙ্গত, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি ভোট। কিন্তু এই SIR প্রক্রিয়ার মার-প্যাঁচে বহু যোগ্য নাগরিক আজ ভোটার তালিকা থেকে বাইরে। অভিযোগ উঠছে, কোনো সঠিক ভেরিফিকেশন ছাড়াই বা যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে এই বিশাল সংখ্যক নাম মুছে ফেলা হয়েছে। যার ফলে আগামী নির্বাচনে ৯১ লক্ষ মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। না, এটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি ৯১ লক্ষ মানুষের নাগরিকত্বের কণ্ঠস্বর। এক্ষেত্রে অবশ্য কমিশনের দাবি, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রশ্ন হল, এত বিশাল সংখ্যক মানুষের নাম একসাথে কেন বাদ পড়ল? এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, যারা বছরের পর বছর ভোট দিয়ে আসছেন, তাদের নামও এখন আর তালিকায় নেই। আচ্ছা, এই ডিজিটাল যুগে এসেও যদি ভোটার লিস্টে এত বড় ভুল থাকে, তবে সাধারণ মানুষের ভরসা থাকবে কোথায়? কেন এত হেনস্তার শিকার হতে হবে নির্দোষ কিছু সাধারণ মানুষকে? উত্তর বোধহয় সকলের কাছেই অজানা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *