বুধবার ভোট পর্ব শেষ হতেই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসে। শাসকদল তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধ ভোটারের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক তরজা। অভিযোগ ওঠে, ভোটকেন্দ্রের ভেতরেই নাকি ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় ওই বৃদ্ধকে। মৃতের পরিবারও প্রথমে একই দাবি করে। তাঁদের বক্তব্য, বুথে উপস্থিত জওয়ানদের ধাক্কাতেই পড়ে যান বৃদ্ধ, আর তারপরই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে এই খবর। ভাইরাল হয় নানা ভিডিও, তৈরি হয় বিভ্রান্তি।
কিন্তু সত্যিটা কী? ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর দিতেই বৃহস্পতিবার সরাসরি সামনে আসে নির্বাচন কমিশন। শুধু বিবৃতি নয়, ভিডিও প্রমাণ দেখিয়েই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় কমিশন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি ৮২ বছর বয়সী পূর্ণচন্দ্র দোলুই। ২৯ এপ্রিল, তিনি তাঁর ছেলের সঙ্গে উদয়নারায়ণপুরের ২৪৫ নম্বর বুথে ভোট দিতে যান। বয়সজনিত দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও, তিনি নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। কমিশন জানায়, ভোট দেওয়ার পরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বুথের কাছেই পড়ে যান। সঙ্গে থাকা ছেলে তখন তাঁর পাশেই ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় আমতা হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি, এই পুরো ঘটনার সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও ধাক্কা বা দুর্ব্যবহারের যোগ নেই। কমিশনের জেনারেল অবজারভারও স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে অসুস্থতা জনিত, সম্ভবত তাপপ্রবাহ বা বয়সজনিত কারণে। কমিশন আরও জানিয়েছে, সেই সময় বুথে উপস্থিত সিএপিএফ জওয়ানরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। একই সঙ্গে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন। একটি শোকের ঘটনাকে বিকৃত না করার আবেদন জানানো হয়েছে। তাদের কথায়, “একজন প্রবীণ মানুষ, যিনি সাহসের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন—তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
কমিশনের আরও সংযোজন, যাচাই না করা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া শুধু বিভ্রান্তি বাড়ায় না, মৃতের পরিবারের কষ্টও বাড়ায়। এই মুহূর্তে প্রয়োজন সংযম এবং মানবিকতা। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, প্রথমে এমন অভিযোগ উঠল কেন? ভিডিওর আংশিক অংশ দেখে কি তৈরি হয়েছে ভুল ধারণা? নাকি রাজনৈতিক মঞ্চে ঘটনাকে অন্যভাবে তুলে ধরার চেষ্টা? বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুততা অনেক সময় সত্য-মিথ্যার সীমারেখা ঝাপসা করে দেয়। একটি অসম্পূর্ণ ভিডিও বা তথ্য মুহূর্তে জনমত প্রভাবিত করতে পারে। তাই যেকোনো তথ্য বিশ্বাস করার আগে আরো সচেতন হওয়া জরুরি।