Is the plot for rigging hatched in the certain knowledge of defeat? Serious allegations raised against the Trinamool Congress regarding EVMs; BJP candidate apprehensive.

হার নিশ্চিত জেনেই কি কারচুপির ছক? তৃণমূল কংগ্রেস-এর বিরুদ্ধে ইভিএম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ, শঙ্কায় ভারতীয় জনতা পার্টি প্রার্থী

বাংলার নির্বাচন শেষ হলেও লড়াই কিন্তু থামেনি! ভোট মিটতেই এবার যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু—ইভিএম স্ট্রংরুম। যেখানে সংরক্ষিত রয়েছে জনগণের রায়, সেখানে কি এবার থাবা বসাতে চাইছে শাসকদল? পূর্ব বর্ধমানের স্ট্রংরুমে ইভিএমের নিরাপত্তা ঘিরে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে, তাতে কার্যত তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস এমন কিছু অভিযোগ তুলেছেন, যা শুনে কপালে ভাঁজ পড়েছে গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের। ষড়যন্ত্রের গন্ধ কি তবে সত্যি? নাকি পরাজয়ের ভয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল? নিয়ম অনুযায়ী, স্ট্রংরুমের নিশ্ছিদ্র পাহারায় থাকার কথা কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কিন্তু বর্ধমান উত্তরের চিত্রটা একেবারে উল্টো। বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাসের অভিযোগ, যেখানে সিআরপিএফ-এর কড়া নজরদারি থাকার কথা, সেখানে কেবল রাজ্য পুলিশের কয়েকজন কর্মীকে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে—কেন এই লুকোছাপা? তৃণমূল পরিচালিত সরকারের অধীনে থাকা রাজ্য পুলিশের ওপর মানুষ কতটা ভরসা করতে পারে, তা কারোর অজানা নয়। বিজেপির দাবি, নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দূরে সরিয়ে রাখা হলো? এটা কি কোনো বড়সড় রিগিং বা ইভিএম বদলের নীল নকশা? ষড়যন্ত্রের জাল আরও গভীর হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে। সঞ্জয় দাসের দাবি, স্ট্রংরুমের ভেতর ও বাইরে থাকা একাধিক ক্যামেরা কাজ করছে না! যে ক্যামেরাগুলো চব্বিশ ঘণ্টা সজাগ থাকার কথা, সেগুলো কেন হঠাৎ বিকল হয়ে গেল? এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কি তবে ভেতরে কোনো কারসাজি চলছে?

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো জেলা পুলিশ সুপারের ভূমিকা। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, এসপি সাহেব একাধিক গাড়ি নিয়ে বারবার স্ট্রংরুম এলাকায় আসা-যাওয়া করছেন। একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের এই ঘনঘন যাতায়াত কি নেহাতই তদারকি, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো নির্দেশ? বিজেপি প্রার্থীর সাফ কথা— “সন্দেহ ঘোচাতে এসপির গাড়িও তল্লাশি করা হোক!” গণতন্ত্র বাঁচাতে পুলিশের গাড়িতেও তল্লাশির দাবি তুলে বিজেপি বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না।

বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস নিজে রাত জেগে স্ট্রংরুম পাহারা দিচ্ছেন। তাঁর স্পষ্ট হুঙ্কার—জনগণের দেওয়া একটি ভোটও অপচয় হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সদুত্তর মেলেনি। সিসিটিভি বন্ধ থাকা আর কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকার পেছনে যে তৃণমূলের প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
তৃণমূল যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝে ইভিএম কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে, তখন ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী বহিন্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন নেই—এই প্রশ্ন এখন প্রতিটি ভোটারের মনে। প্রশাসনের এই নীরবতা কি তবে অপরাধ স্বীকারের নামান্তর? গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্বচ্ছতা। আর সেই স্বচ্ছতা রক্ষার লড়াইয়ে আজ সম্মুখ সমরে বিজেপি। ৪ মে-র ফলাফল কী হবে, তা ইভিএমের ভেতরে বন্দি। কিন্তু সেই ইভিএম পাহারা দিতে বিজেপি যেভাবে এসপির গাড়ি পর্যন্ত চেক করার সাহস দেখিয়েছে, তা বাংলার রাজনীতিতে বিরল।

তৃণমূলের হাজারো ষড়যন্ত্র কি পারবে মানুষের রায়কে বদলে দিতে? নাকি ৪ মে-র সকালে সব রহস্যের পর্দাফাঁস হবে? লড়াই এখন শুধু বুথে নয়, লড়াই এখন স্ট্রংরুমের পাহারায়ও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *