Now, 3,000 Taka will be deposited into the account every month.

এবার প্রত্যেক মাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে 3000 টাকা করে !কারা কারা আবেদন করতে পারবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ?

বাংলার মা-বোনেদের জন্য এক ঐতিহাসিক সুসংবাদ! ভোটব্যাঙ্কের সস্তা রাজনীতি নয়, বরং প্রকৃত নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এক বিশাল পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রতিশ্রুতি মতো চালু করতে চলেছেন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে এতদিন প্রচার চলেছিল, তাকে ছাপিয়ে গিয়ে এবার মা-বোনেদের হাতে মাসিক ৩০০০ টাকা পৌঁছে দেওয়ার সংকল্প নিয়েছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অঢেল সুবিধা কি সবাই পাবেন? নাকি এর পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত? আজকের ভিডিওতে আমরা বিস্তারিত জানাবো, কারা হতে চলেছেন এই প্রকল্পের আসল দাবিদার।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প একসময় জনপ্রিয় হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু অভিজ্ঞ মহলের মতে, তা ছিল স্রেফ ভোট কেনার একটি হাতিয়ার। যৎসামান্য টাকা দিয়ে মহিলাদের স্বাবলম্বী করার যে দাবি তৃণমূল করেছিল, তা আদতে প্রহসনে পরিণত হয়েছিল। কারণ, সেই টাকায় বর্তমানের অগ্নিমূল্যের বাজারে একটি পরিবারের নূন্যতম প্রয়োজনও মেটানো সম্ভব ছিল না। কিন্তু বিজেপি সরকার বিশ্বাস করে সম্মানে। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মার্গদর্শনে বাংলায় চালু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। এখানে অনুদান ১০০০ বা ১২০০ নয়, সরাসরি ৩০০০ টাকা করা হয়েছে, যাতে বাংলার প্রত্যেকটি পরিবার মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কিছু স্বচ্ছ নিয়মাবলী তৈরি করেছে। প্রথমত: এই প্রকল্প বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের জন্য। অর্থাৎ, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলারাই অগ্রাধিকার পাবেন। দ্বিতীয়ত: পরিবারের স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে একটি নিয়ম রাখা হয়েছে। যদি আবেদনকারী নিজে কিংবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরি করেন, তবে তিনি এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। বিজেপি সরকারের লক্ষ্য হলো—যাদের সত্যিই প্রয়োজন, সরকারি কোষাগারের টাকা যেন তাদের কাছেই আগে পৌঁছায়।
তৃতীয়ত: আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করার যে সংস্কৃতি এতদিন বাংলায় চলেছিল, তার অবসান ঘটিয়ে কেবল ভূমিপুত্র ও প্রকৃত নাগরিকরাই এই সুবিধা পাবেন।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আরেকটি বড় বিশেষত্ব হলো এর বয়সসীমা। ২১ বছর থেকে শুরু করে ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত মহিলারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তরুণী থেকে বৃদ্ধা—প্রত্যেককে এই সুরক্ষা কবচের আওতায় আনা হয়েছে। এতদিন অভিযোগ উঠত, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে শাসকদলের ক্যাডারদের ধরতে হতো কিংবা কাটমানি দিতে হতো। কিন্তু নতুন সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এখানে কোনো ‘ভাইপো’ বা ‘সিন্ডিকেট’ থাকবে না। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্বচ্ছভাবে টাকা পৌঁছে যাবে। কোনো কাটমানি নয়, কোনো তোলাবাজি নয়—এটাই হলো মোদী-শুভেন্দু জুটির আসল সুশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বলেছেন, নারী শক্তির উন্নয়ন ছাড়া ভারতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার স্রেফ একটি খয়রাতি প্রকল্প নয়, এটি মা-বোনেদের আত্মনির্ভর করার একটি চাবিকাঠি। তৃণমূলের আমলে মহিলাদের সুরক্ষা যেখানে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল, সেখানে বিজেপি সরকার আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদাও নিশ্চিত করতে চাইছে। ৩০০০ টাকা হাতে আসা মানেই একজন মহিলা তাঁর ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাতে কারোর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবেন না। এটিই হলো প্রকৃত অর্থে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রথম ধাপ। খুব শীঘ্রই সরকারিভাবে এই প্রকল্পের নির্দেশিকা ও ফর্ম জমা দেওয়ার তারিখ ঘোষণা করা হবে। যারা এতদিন ১০০০ টাকার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপদস্থ হয়েছেন, তাদের জন্য সম্মান আর স্বাচ্ছন্দ্যের দিন ঘনিয়ে এসেছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বাংলার ঘরে ঘরে অন্ন আর লক্ষ্মী—উভয়কেই সুনিশ্চিত করবে। আপনি কি এই প্রকল্পের জন্য প্রস্তুত? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান। বাংলার নতুন সরকারের প্রতিটি আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *