উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সম্প্রতি এক বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১ জুলাই থেকে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত আধুনিক পাঠ্যক্রমই চালু থাকবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশু-কিশোরদের উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান সরাসরি তালাবন্ধ করে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, ধামি সরকার অ্যান্টি-কনভার্সন আইন, অ্যান্টি-রায়ট আইন এবং মাদ্রাসা বোর্ড বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে প্রবল আলোচনা।
বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এই ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। কারণ, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বহুদিন ধরেই মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন, ধর্মের নামে শিশুদের মনকে প্রভাবিত করা উচিত নয়। তার দাবি, শিক্ষা হতে হবে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মূলধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উত্তরাখণ্ডের সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই শুভেন্দুর সমর্থকরা বলতে শুরু করেছেন, বাংলাতেও এবার কঠোর সিদ্ধান্তের সময় এসেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কিছু জেলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু মাদ্রাসায় শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা নয়, বরং বিভাজনমূলক চিন্তাভাবনাও ছড়ানো হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে সবসময় নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও রাজনৈতিক বিতর্ক কিন্তু থামেনি।
এদিকে বিজেপির আরেক নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অতীতেও মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। সম্প্রতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, “সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের দায় আমাদের নয়”। সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তবে এই পুরো বিষয়টিকে সবাই একভাবে দেখছেন না। একাংশের মতে, শিশুদের জন্য একটাই মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা থাকা উচিত। গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি, কম্পিউটার শিক্ষা এসব ছাড়া আধুনিক সমাজে টিকে থাকা কঠিন। তাই ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাকেও বাধ্যতামূলক করা দরকার।
অনেক শিক্ষাবিদও বলছেন, “যদি মাদ্রাসাগুলিতে সরকারি সিলেবাস পুরোপুরি চালু হয়, তাহলে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু কোনোভাবেই যেন ছাত্রছাত্রীরা মূলধারার শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়।” অন্যদিকে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের অভিযোগ, মাদ্রাসাকে টার্গেট করে রাজনৈতিক মেরুকরণ করা হচ্ছে। তাদের মতে, ধর্মীয় শিক্ষা সাংবিধানিক অধিকার এবং সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখা ঠিক নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাখণ্ডের এই সিদ্ধান্ত আসলে ২০২৬ সালের বাংলার রাজনীতিতেও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। কারণ বিজেপি ইতিমধ্যেই “এক দেশ, এক শিক্ষা নীতি” ধরনের বার্তা তুলে ধরতে চাইছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি এমন কোনো ঘোষণা করেননি, তবে তাঁর অতীতের বক্তব্য এবং বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান দেখে জল্পনা কিন্তু ক্রমশ বাড়ছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অনেক মাদ্রাসাতেই বর্তমানে আধুনিক শিক্ষা, বিজ্ঞান, কম্পিউটার এবং ভাষাশিক্ষা চালু আছে। রাজ্যের বহু ছাত্রছাত্রী সেখান থেকে পাশ করে উচ্চশিক্ষাতেও এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন নিরাপত্তা ও আধুনিক শিক্ষার প্রশ্ন রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংবিধানিক অধিকারের বিতর্ক। এই দুইয়ের সংঘাতই আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে বড় আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আপনার কী মত? মাদ্রাসায় শুধুই সরকারি আধুনিক পাঠ্যক্রম হওয়া উচিত? নাকি ধর্মীয় শিক্ষার স্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি? কমেন্ট করে অবশ্যই জানান।