বদল হয়েছে নবান্নে, এবার বদল হবে যাদবপুরে। যে বিশ্ববিদ্যালয়কে এতদিন দেশবিরোধী স্লোগান আর মাওবাদী আদর্শের আঁতুড়ঘর বানিয়ে রাখা হয়েছিল, সেখানে আজ বইছে জাতীয়তাবাদের হাওয়া। ইতিহাসের পাতায় এই প্রথমবার—যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হলো আরএসএস-এর ‘প্রভাত শাখা’। মঙ্গলবার সকালে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গেরুয়া পতাকার সামনে মাথা নত করে শুরু হলো এক নতুন যুগের। তৃণমূল জমানায় যে অরাজকতা আর তোষণের প্রশ্রয়ে যাদবপুরের দেওয়ালে দেওয়ালে দেশবিরোধী গ্রাফিতি ফুটে উঠত, বিজেপি সরকার আসতেই তা এখন অতীত।
অরবিন্দ ভবনের দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দের সাথে সসম্মানে জায়গা করে নিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। যারা এতদিন ‘আজাদি’র নামে বিশৃঙ্খলা ছড়াত, তাদের চোখে চোখ রেখে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—যাদবপুরকে এবার মাওবাদী প্রভাবমুক্ত করা হবে। গেরুয়া পতাকা হাতে আর্টস-সায়েন্স মোড় থেকে অরবিন্দ ভবন পর্যন্ত কর্মীদের সেই মিছিল আজ এক বিশেষ সংকেত দিচ্ছে। কর্মচারী পরিষদের রাজ্য সম্পাদক পলাশ মাজির কথায়—শুরু হলো, আর এই কার্যক্রম চলবে অনন্তকাল। এক দশক আগে যেখানে ‘বুদ্ধ ইন এ ট্র্যাফিক জ্যাম’ সিনেমা দেখাতে গিয়ে উদ্যোক্তারা শারীরিক হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন, আজ সেখানে জাতীয়তাবাদীদের রোখার ক্ষমতা কারও নেই।
বিগত তৃণমূল সরকার কেবল বিরোধিতার খাতিরে কেন্দ্রের যে ‘পিএম-শ্রী’ প্রকল্পের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, নতুন সরকার এসেই তা কার্যকর করেছে। উদ্ভাবন আর উদ্যোক্তা তৈরির তিন দিনের বিশেষ কর্মসূচি এখন যাদবপুরে। উচ্চশিক্ষার আঙিনায় রাজনীতির নামে জঞ্জাল সরিয়ে এবার জায়গা করে নিচ্ছে আধুনিকতা আর স্বনির্ভরতার পাঠ।শাখায় শুধু যোগব্যায়াম বা শারীরিক কসরত নয়, নিয়মিত হবে মনীষীদের জীবনী পাঠ আর আদর্শগত আলোচনা। লক্ষ্য একটাই—ছাত্র ও কর্মীদের মনের ভেতর সেই ঘুমিয়ে থাকা জাতীয়তাবাদকে জাগিয়ে তোলা।
অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শিক্ষক মহাসংঘ (ABRSM)-ও এখন ময়দানে। যারা এতদিন শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতির আখড়া বানিয়ে মেধাবী ছাত্রদের বিপথে চালিত করত, তাদের দিন এবার ঘনিয়ে এসেছে। যাদবপুর আর কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়, যাদবপুর এখন মূল স্রোতের অঙ্গ। মাওবাদী অন্ধকার সরিয়ে গেরুয়া আলোর এই অভিষেক বুঝিয়ে দিল—বাংলায় এবার জাতীয়তাবাদই শেষ কথা। যারা ভারত ভাঙার স্বপ্ন দেখত, তাদের জন্য যাদবপুরের মাটি এখন তপ্ত আগ্নেয়গিরি। আপনার কী মনে হয়? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে RSS-এর এই প্রবেশ কি দীর্ঘদিনের একতরফা রাজনীতি বন্ধের পথে বড় পদক্ষেপ? কমেন্টে জানান আপনার মতামত।