Animal sacrifice is being banned in West Bengal.

পশু বলি বন্ধ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে? পশুবলি বা ধর্মীয় কারণে পশু হত্যা নিয়ে আইনি কড়াকড়ি শুরু করল বিজেপি সরকার

বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই একের পর এক নির্দেশিকা। এবার রাজ্যে পশুবলি বা ধর্মীয় কারণে পশু হত্যা নিয়ে আইনি কড়াকড়ি শুরু করল পশ্চিমবঙ্গের নয়া বিজেপি সরকার। স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশুবলি দেওয়া এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ। মূলত গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুরের মতো গবাদি পশু বলির ক্ষেত্রে একগুচ্ছ শর্ত আরোপ করা হয়েছে। কী সেই শর্ত?

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশুবলি দিতে হলে বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে।

১)পশুটি (ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মোষ, মোষের বাচ্চা এবং মুষ্ক-ছেদিত মোষ) আদৌ বলির উপযুক্ত কিনা সে ব্যাপারে শংসাপত্র গ্রহণ না করে তা কেউই বলি দিতে পারবেন না।

২) যুগ্ম শংসাপত্র: সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসক যৌথভাবে পশুবলির জন্য শংসাপত্র দেবেন।

৩) পশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থা: পশুটির বয়স অন্তত ১৪ বছরের বেশি হতে হবে। অথবা, যদি পশুটি বার্ধক্য, চোট বা কোনো দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে স্থায়ীভাবে কাজ করতে অক্ষম হয়, তবেই বলি দেওয়ার অনুমতি মিলবে।

৪) নির্দিষ্ট স্থান: শংসাপত্র থাকলেও প্রকাশ্য স্থানে বা রাস্তার ধারে পশুবলি দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র সরকারি বা প্রশাসন অনুমোদিত কসাইখানাতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

৫) শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করলে, ক্ষুব্ধ ব্যক্তি শংসাপত্র প্রত্যাখ্যানের বার্তা পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারেন।

৬) যে পশুর ক্ষেত্রে শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে, সেই পশুটিকে যে কোনো প্রকাশ্য স্থানে বলি দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

৭) ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’-এর নিয়মগুলি বলবৎ করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা সরকারি পশু চিকিৎসক বলিপ্রাঙ্গণ পরিদর্শন করতে চাইলে তাঁর কাজে কেউই বাধা প্রদান করতে পারবেন না।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কলকাতা হাইকোর্ট ইতিপূর্বে জনসমক্ষে পশুবলি বা বড় কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গণ-বলি নিয়ন্ত্রণে একাধিক নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ পালন করতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৫০ সালের আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চাইছে। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানানো হয়েছে, এই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে প্রশাসনের তরফে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের জেল হতে পারে। ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা জেল ও জরিমানা উভয় দণ্ডই হতে পারে। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধ এবং জনজীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *