বেলঘরিয়ার আদ্যাপীঠ মন্দিরে এদিন যেন ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার এক অন্য আবহ। সেই পবিত্র পরিবেশে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে প্রসাদী মালা পরিয়ে স্বাগত জানান আদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই। আশ্রমের আবাসিক ও পড়ুয়ারাও তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন। মন্দিরে পা রাখার পর থেকেই যেন বদলে গেল চারপাশের পরিবেশ ভক্তি, প্রার্থনা আর ধর্মীয় আবেগে ভরে উঠল মন্দির প্রাঙ্গণ।
এদিন আদ্যাপীঠের নবনির্মিত মূল ফটকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আশ্রমের তরফে দেওয়া নতুন অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবারও উদ্বোধন করেন তিনি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।এরপর আদ্যাপীঠের গোশালায় যান তিনি। সেখানে গোমাতার সেবা করার পর মন্দিরে গিয়ে আদ্যা মায়ের পুজো দেন। অংশ নেন আরতিতেও। বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ পুজো ও আরতির মুহূর্তে মন্দিরজুড়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। কিছুক্ষণের জন্য যেন রাজনীতির ব্যস্ততা সরিয়ে একান্ত ভক্তের ভূমিকাতেই দেখা গেল তাঁকে।
আদ্যাপীঠ শুধু একটি মন্দির নয়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সেবা ও জনকল্যাণের সঙ্গেও যুক্ত এই প্রতিষ্ঠান। সেই কারণেই আশ্রমের অনাথ আশ্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবিষ্যতে কীভাবে এই কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।তবে দিনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা উঠে আসে আধ্যাত্মিকতা ও নৈতিকতা প্রসঙ্গে। মানুষের জীবনে ধর্মীয় ও নৈতিক চেতনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সনাতনী সংস্কৃতি ও আত্মশুদ্ধির প্রসঙ্গ। হিংসা, অন্যায় কিংবা পাপকর্ম থেকে মানুষকে দূরে রাখার জন্য গীতার শিক্ষার কথাও বলেন তিনি।
আর জি কর-কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর এই বার্তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। সমাজে অপরাধ ও হিংসা কমাতে শুধু আইন নয়, মানুষের মন ও মূল্যবোধের পরিবর্তনও প্রয়োজন এমনই বার্তা উঠে আসে তাঁর কথায়। গীতার শিক্ষা মানুষের ভিতরের অন্ধকার দূর করে নৈতিকতার পথে ফেরাতে পারে বলেও তিনি মনে করিয়ে দেন।এদিন প্রধানমন্ত্রীরও ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্ম, সংস্কৃতি ও দেশের উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করতে দেখা যায় তাঁকে। সব মিলিয়ে আদ্যাপীঠ সফর শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নয়, বরং মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠল।
আদ্যা মায়ের পুজো, গোমাতার সেবা থেকে শুরু করে গীতাপাঠের বার্তা সব মিলিয়ে আদ্যাপীঠ থেকে যেন একটাই কথা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, সমাজকে বদলাতে হলে আগে বদলাতে হবে মানুষের মন। আর সেই পরিবর্তনের পথেই ধর্ম, নৈতিকতা ও মানবিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।