শিলিগুড়ি শহরে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য থেকে বুলডোজার ভাড়া করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকের পর এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। অবৈধ নির্মাণের মালিকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, নিজেরা নির্মাণগুলো ভেঙে না ফেললে প্রশাসন থেকে ভাঙা হবে।
রাজ্যে পালাবদলের পর বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙা চলছে। এই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার মহকুমা শাসকের দফতরে যান দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ। শিলিগুড়ি শহরের একাধিক সমস্যা নিয়ে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে বৈঠকে ছিলেন পুলিশ কমিশনার, জেলাশাসক, দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। বৈঠক শেষে রাজু বলেন, “উত্তরপ্রদেশ থেকে দুডজন জেসিবি-র অর্ডার দিয়েছি। মোট ২৪টি জেসিবি আসছে”
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই প্রশাসনের নজরে এসেছে বিভিন্ন অবৈধ নির্মাণ। শহর থেকে গ্রাম নানা জায়গায় বেআইনি দখল, অনুমতি ছাড়া তৈরি বাড়ি কিংবা সরকারি জমি দখল করে নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
অনেকের মতে, প্রশাসন এবার বড় আকারে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবার বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কও তৈরি করতে পারে।
শিলিগুড়ি শহরে দীর্ঘদিন ধরেই বহু বেআইনি নির্মাণ এবং দখলদারির অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নিকাশি নালা, রাস্তার অংশ কিংবা সরকারি জমি দখল করে বাড়ি বা দোকান তৈরির অভিযোগ বারবার উঠেছে। কিন্তু কেউ কখনো ফিরেও তাকায়নি। সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধা ভেবে দেখেনি। এবার সব সমস্যার সমাধান হতে চলেছে।
প্রশাসনের দাবি, অবৈধ নির্মাণের ফলে শহরের স্বাভাবিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষাকালে জল জমা, ট্রাফিক সমস্যা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই নিয়ম মেনে শহরকে গড়ে তুলতেই এই অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রশাসন।বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় স্তরে নজরদারির অভাব এবং দুর্নীতির কারণেই বছরের পর বছর ধরে অবৈধ নির্মাণ চলতে থাকে।
রাজ্যে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এই ধরনের কড়া পদক্ষেপকে অনেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। রাস্তায় তীব্র যানজট, আগুন লাগলে দমকলের গাড়ি ঢুকতে না পারা কিংবা দুর্বল নির্মাণের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সব কিছুর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে। তাই প্রশাসন যদি সত্যিই নিরপেক্ষভাবে এবং নিয়ম মেনে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে শহরের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।