সত্যি কি কখনো চাপা থাকে? নাকি পাপের ঘড়া পূর্ণ হলে বিধাতা নিজেই ন্যায়ের পথ খুলে দেন? বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই যখন আরজি করের ফাইল নতুন করে খোলা হয়েছে, ঠিক তখনই খোদ আরজি করের আটতলায় দাঁড়িয়ে এক মহাবিস্ফোরণ ঘটালেন বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে তালাবন্ধ একটি রহস্যময় ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি যা দাবি করলেন, তাতে নতুন করে কেঁপে উঠেছে বাংলার রাজনীতি।
তৃণমূলের জমানায় আরজি কর-কাণ্ডে যেভাবে তড়িঘড়ি দেওয়াল ভাঙা হয়েছিল, যেভাবে সেমিনার রুমের চারপাশের তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা হয়েছিল, তা আজ আর কারও অজানা নয়। পিসি-ভাইপোর পুলিশ প্রশাসন যেভাবে অপরাধীদের আড়াল করতে কোটি কোটি বাঙালির আবেগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সরব ছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আর এবার সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে সেই চক্রান্তের জট খুললেন তিনি।
শনিবার আরজি কর হাসপাতালে আচমকাই হাজির হন প্রাক্তন বিচারপতি। আটতলার একটি নির্দিষ্ট ঘরের সামনে গিয়ে তিনি থমকে দাঁড়ান—যে ঘরটি আজ পর্যন্ত কোনো তদন্তকারী দল খোলার প্রয়োজন মনে করেনি! নিজের মোবাইল বের করে সেই ঘরের ভিডিও রেকর্ড করেন সাংসদ। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, এই বন্ধ ঘরের ভেতরেই লুকিয়ে রাখা হয়েছে আসল সত্যিটা! কিন্তু কেন এতদিন এই ঘর খোলা হলো না? কার স্বার্থে?
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি সমগ্র সিবিআই সংস্থাকে দোষ দিচ্ছেন না, কিন্তু এই মামলার দায়িত্বে থাকা নির্দিষ্ট এক অফিসার সীমা আহুজার ভূমিকা চরম সন্দেহজনক! সাংসদের সরাসরি প্রশ্ন— “সীমা আহুজা আজ পর্যন্ত এই ঘরটা খোলার সময় পেলেন না কেন?” অভিজিৎবাবুর দাবি, ওই বন্ধ ঘরের ভেতরে নাকি রয়েছে এমন কিছু প্লেট আর রক্তমাখা হ্যান্ডগ্লাভস, যা থাকার কথা নয়! তবে কি সুপরিকল্পিতভাবে আসল খুনিদের বাঁচানোর জন্য তদন্তের মোড় ঘোরানো হচ্ছিল?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই তিন তল্পিবাহক আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে অপরাধীদের কোনো ক্ষমা নেই। আর এবার অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই নতুন তথ্যপ্রমাণ আরজি কর মামলার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিতে চলেছে। যারা ভেবেছিল ক্ষমতা আর প্রতিপত্তি দিয়ে তিলোত্তমার রক্ত মুছে ফেলা যাবে, শুভেন্দু সরকার আর অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই জোড়াফলা আজ তাদের বুক কাঁপিয়ে দিয়েছে।
আটতলার ওই বন্ধ ঘর যদি এবার খোলে, তবে কোন কোন রাঘববোয়ালের মুখোশ খুলবে? তৃণমূলের কোন কোন প্রভাবশালী নেতা এবার শ্রীঘরের দিকে পা বাড়াবেন? প্রাক্তন বিচারপতির এই লড়াই আজ প্রমাণ করে দিল—বিজেপি সরকার বাংলায় কেবল সরকার বদল করেনি, বরং প্রতিটি অপরাধের হিসাব বুঝে নিতে এসেছে।
আপনার কী মনে হয়? সিবিআই অফিসারের এই গাফিলতির পেছনেও কি তৃণমূলের কোনো বড় নেতার হাত রয়েছে? আটতলার ওই ঘর খুললে কি আসল সত্যি সামনে আসবে? কমেন্টে জানান আপনার মতামত…