২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে হাওড়া জেলা পরিষদের একটি তফসিলি উপজাতি সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন ঝুমঝুম নস্কর। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অপর্ণা বর। ফল প্রকাশের পর ওই আসন-সহ ৪২টির ৪২টিতেই জয়ের দাবি করে তৃণমূল। কিন্তু তারপরই সামনে আসে বড় অভিযোগ। বিজেপি প্রার্থী ঝুমঝুম নস্করের দাবি ছিল, প্রতিপক্ষ ভুয়ো তফসিলি উপজাতি শংসাপত্র জমা দিয়ে নির্বাচন লড়েছেন। এই অভিযোগ নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ডিসেম্বর মাসে হাওড়া আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওই আসনের প্রকৃত জয়ী বিজেপির ঝুমঝুম নস্কর। আদালত নির্দেশ দেয়, তাঁকে অবিলম্বে জয়ের শংসাপত্র দিতে হবে।
কিন্তু অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পরেও প্রায় পাঁচ মাস ধরে সেই সার্টিফিকেট দেয়নি জেলা প্রশাসন। অবশেষে বৃহস্পতিবার প্রশাসনের তরফে ঝুমঝুম নস্করের হাতে তুলে দেওয়া হয় জয়ের শংসাপত্র। আর তারপরই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। উড়ে গেরুয়া আবির। সার্টিফিকেট দিতে এত দেরি কেন? জেলা প্রশাসনের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন এবং ভোট সংক্রান্ত ব্যস্ততার কারণেই দেরি হয়েছে। এদিকে ঘটনাকে আরও নাটকীয় করেছে ঝুমঝুম নস্করের রাজনৈতিক অবস্থান বদলের বিষয়টি।
সম্প্রতি তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন বলেও জানা যায়। এমনকি সাঁকরাইল বিধানসভা আসনে নিজেকে তৃণমূল প্রার্থী দাবি করে মনোনয়নও জমা করেছিলেন।
যদিও পরে সেই মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। এই প্রসঙ্গে ঝুমঝুম নস্করের বক্তব্য, “ওটা সাময়িক উত্তেজনার বশে হয়েছিল। জানতাম মনোনয়ন বাতিল হবে।” তাঁর আরও দাবি, “তিন বছর ধরে এলাকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার শপথ নিয়ে দ্রুত উন্নয়নের কাজ শুরু করব।” অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও আইনি লড়াইয়ের পথ খোলা রাখছে। সাঁকরাইল ব্লক তৃণমূল সভাপতি অমৃত বসুর বক্তব্য, “এখনও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।” তবে এই ঘটনার পর হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তিন বছর পর বদলে যাওয়া এই রায়, রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।