আইন সবার জন্য সমান—তা সে রাস্তার কোনো সাধারণ নাগরিকই হোক, কিংবা কালীঘাটের কোনো প্রভাবশালী রাজপুত্র! মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বাংলায় কোনো বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। আর সেই প্রতিশ্রুতির প্রথম ও সবথেকে বড় ঝলক মিলল খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুয়ারে। অভিষেকের হরিশ মুখার্জি রোডের প্রাসাদ ‘শান্তিনিকেতন’ এবং কালীঘাটের বাড়িতে সেঁটে দেওয়া হলো পুরসভার নোটিস!
বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলায় তৃণমূলের যে সিন্ডিকেট রাজ চলেছিল, সেখানে ভাইপো আর তাঁর চেলারা যা চেয়েছেন, তাই-ই আইন বলে গণ্য হতো। পুরসভার নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল একের পর এক বেআইনি রাজপ্রাসাদ। কিন্তু নবান্নের মসনদে বিজেপি আসতেই সেই চোর-লুটেরাদের দিন শেষ হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ পাওয়া মাত্রই অ্যাকশনে নেমেছে কলকাতা পুরসভা। নোটিসে সাফ জানানো হয়েছে—বেআইনি অংশ অবিলম্বে ভাঙতে হবে, না হলে চলবে সরকারি বুলডোজার! পুরসভার নজরে এখন ভবানীপুর বিধানসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি হাই-প্রোফাইল ঠিকানা। প্রথমটি হলো—১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের পেল্লায় প্রাসাদ ‘শান্তিনিকেতন’, যেখানে অভিষেক তাঁর পরিবার নিয়ে থাকেন। আর দ্বিতীয়টি হলো—১২১ কালীঘাট রোডের বাড়ি, যা খাতায়-কলমে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে হলেও, আসলে তা বিতর্কিত সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সম্পত্তি! পুরসভার স্পষ্ট অভিযোগ, এই দুটি বাড়ির নির্মাণেই রয়েছে বড়সড় প্ল্যান-বহির্ভূত জালিয়াতি।
পুরসভার নোটিসে মাত্র ৭ দিনের ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। এই ৭ দিনের মধ্যে যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের উদ্যোগে সেই বেআইনি অতিরিক্ত নির্মাণ ভেঙে না ফেলেন, তবে পুরসভার নিজস্ব বুলডোজার গিয়ে সেই দেওয়াল গুঁড়িয়ে দেবে। ভাবা যায়? যে হরিশ মুখার্জি রোডের সামনে দিয়ে সাধারণ মানুষ বুক চিতিয়ে হাঁটতে ভয় পেত, আজ সেখানে আইনের ডান্ডা ঘুরছে ফ্রন্টফুটে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই নোটিস পাঠানো নিয়ে কলকাতা পুরসভার বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলছেন— তিনি নাকি কিছুই জানেন না! তাঁর এই অসহায়তা দেখে রাজনৈতিক মহলে এখন হাসির রোল। এই প্রসঙ্গে কড়া কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে প্রবীণ বিজেপি নেতা তাপস রায় স্পষ্ট বলেছেন— “আসলে ফিরহাদকে এখন আর ওড়না-চেলারাও মানছে না। পুরসভায় তাঁর কোনো গুরুত্বই নেই, তাই উনি কিছু জানতেও পারছেন না। তবে পুরসভা যে নোটিস পাঠিয়েছে, একেবারে সঠিক এবং ন্যায়সঙ্গত কাজ করেছে।”
বিজেপি সরকার প্রমাণ করে দিল, উত্তরপ্রদেশের মতো বুুলডোজার নীতি এবার বাংলাতেও কার্যকর হচ্ছে—তবে তা অপরাধী আর বেআইনি চোরদের দমনে। পিসি-ভাইপোর সাজানো সেই দুর্নীতির সাম্রাজ্য আজ তাসের ঘরের মতো কাঁপছে। ৭ দিন পর ভাইপোর ‘শান্তিনিকেতনে’ আসলেও বুলডোজার চলে কিনা, তা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গোটা বাংলা।
আপনার কী মনে হয়? অভিষেকের বাড়ির বেআইনি অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কি আসলে বাংলায় সমান আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করলেন? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।