Who will become the state ministers? On whom

কারা হবেন রাজ্যের মন্ত্রী? কাদের উপর বেশি ভরসা বিজেপির?

গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে অমিত শাহের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে বাংলার মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এরপর শুক্রবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করেন শুভেন্দু। ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় শপথ নিয়েছেন পাঁচ মন্ত্রী। পরে তাঁদের দফতর বণ্টন করা হয়। পঞ্চায়েত দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। পঞ্চায়েতের সঙ্গে প্রাণী সম্পদ, কৃষি বিপণন দফতরের দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে। এর সঙ্গে সঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়নের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। খাদ্য দফতরের দায়িত্বে এলেন অশোক কীর্তনিয়া। অর্থাৎ, প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম খাদ্যমন্ত্রী তিনি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের সঙ্গে ক্রীড়া দফতরের দায়িত্বে নিশীথ প্রামাণিক। আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বে ক্ষুদিরাম টুডু। তাঁদের নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছেন। নেওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

এই মন্ত্রিসভা শুধু প্রশাসনিক নয়, পুরোপুরি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বুঝে গিয়েছে, বাংলায় দীর্ঘমেয়াদে শক্ত ঘাঁটি গড়তে গেলে সরকার ও সংগঠনের মধ্যে আরও সমন্বয় দরকার। তাই এবার মন্ত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ বনাম দক্ষিণবঙ্গের ভারসাম্য, মতুয়া, আদিবাসী ও তফসিলি ভোটব্যাঙ্ক, মহিলা প্রতিনিধিত্ব, সংগঠনে সক্রিয় মুখদের পুরস্কার। ২০২৬-এর রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি
অর্থাৎ, এই মন্ত্রিসভা আসলে আগামী দিনের ব্লুপ্রিন্ট হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

রাজ্যের বিজেপি শিবিরে এখন জোর জল্পনা, আরও বড় মুখ কি মন্ত্রিসভায় আসছেন? সংগঠনের একাংশ মনে করছে, নতুন কিছু আঞ্চলিক ও তরুণ মুখকে সামনে এনে বিজেপি বাংলায় নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বার্তা দিতে চাইছে সরকার। প্রথম বৈঠকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি শাসক শিবিরের। দিল্লির সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রেখে শুভেন্দু অধিকারীর সক্রিয়তা এখন স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজর কতটা গভীর।

ফলে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন বাংলায় সরকার ও সংগঠনের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তুলতে চাইছে। আর সেই কারণেই মন্ত্রিসভায় কাদের জায়গা দেওয়া হবে, কোন অঞ্চল বা গোষ্ঠীকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, কোন মুখকে সামনে এনে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হবে- তা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক হিসাব কষছে শীর্ষ নেতৃত্ব। এক্ষেত্রে মুখ‍্যমন্ত্রীর মতামতকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বাংলার মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ শুধুমাত্র প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং বাংলায় বিজেপির আগামী দিনের বড় রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *