Is the Ghassphul truly facing an existential crisis?

ঘাসফুল কি সত্যিই অস্তিত্ব সংকটে? বিধানসভা অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দুই বিধায়কের বহিষ্কার

বাংলার রাজনীতিতে আবারও উত্তাপ ছড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। বিধানসভার নতুন অধিবেশন এখনও পুরোপুরি শুরুই হয়নি, কিন্তু তার আগেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। সম্প্রতি তৃণমূলের দুই বিধায়ক, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, দলের ভিতরে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে এবং তার বহিঃপ্রকাশই এই ঘটনাগুলি।

আর এখানেই সবচেয়ে বড় বিতর্কের সূত্রপাত। বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, তৃণমূল আর আগের মতো ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দল নেই। তাঁর ভাষায়, এটি এখন “দল নয়, দল-দল হয়ে গিয়েছে”। এই মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি প্রয়াত তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের একটি পুরনো মন্তব্যও তুলে ধরেন। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূলের ভিতরে একাধিক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন নেতা-নেত্রী নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাদা ভাবতে শুরু করেছেন। তাঁর দাবি, যাঁরা একসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে তৃণমূলে এসেছিলেন, তাঁরা এখন আবার নিজেদের পুরনো রাজনৈতিক শিকড়ে ফিরে যাওয়ার পথ খুঁজছেন।

তবে এখানেই থামেননি তিনি। আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে নিষিদ্ধ করা উচিত এবং এমনকি দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘ঘাসফুল’-কেও ব্যান করে দেওয়া উচিত। স্বাভাবিকভাবেই এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে প্রবল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা বা তার প্রতীক বাতিল করা অত্যন্ত গুরুতর এবং আইনি প্রক্রিয়াসাপেক্ষ বিষয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দাবির ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে বিজেপির আরেক নেতা অর্জুন সিংও দাবি করেছেন, তৃণমূলের ভিতরে বড় ধরনের ভাঙনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আগামী ২২ জুনের আগেই দলের একাংশ আলাদা রাজনৈতিক সংগঠন গঠন করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের ভিতরে মতপার্থক্য বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের খবর সামনে এসেছে। কিন্তু প্রতিবারই দলীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বহিষ্কার এবং কিছু নেতার প্রকাশ্য অসন্তোষ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি এবার আগের চেয়ে কিছুটা জটিল হতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *