Ratna takes a jibe at Abhishek over the Sonarpur 'egg incident,' remarking—"Thanks to the people for making my hair silky."

সোনারপুরে ডিম-কাণ্ডে অভিষেককে কটাক্ষ রত্নার, বললেন—‘চুল রেশমি করার জন্য মানুষকে ধন্যবাদ’

গত শনিবার নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার শিকার হওয়া পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁকে পড়তে হয় নজিরবিহীন জনরোষের মুখে। তার দিকে ধেয়ে আসে উড়ন্ত ডিম ও পাথর। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, শেষমেশ ক্রিকেট হেলমেট পরে, নিরাপত্তারক্ষীদের কড়া বেষ্টনীতে কোনোমতে এলাকা ছাড়েন তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় হওয়া শুরু হয়েছে। আর এই ঘটনাকে ঘিরে এবার সরাসরি নবান্নের প্রাক্তনীদের হুঁশিয়ারি দিলেন আর জি করের নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ।

সোনারপুরের এই গণরোষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আর জি কর হাসপাতালে নৃশংসভাবে খুন ও ধর্ষণের শিকার হওয়া সেই অভয়ার মা, যিনি আজ বাংলার ঘরে ঘরে প্রতিবাদের মুখ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হবে।’ এরপরই তীব্র উপহাসের সুরে তিনি বলেন, “আমি সোনারপুরের জনগণকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্বক ও চুলের যত্ন নিয়ে সেগুলোকে ডিম ছিটিয়ে রেশমি করে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। ওরা আমার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। পিসি আর ভাইপো মিলে আমার মেয়ের সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। জানি না আমার মেয়ের আত্মা কতটা শান্তি পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে বড় নেতা ভাবেন, কিন্তু জনগণের মুখোমুখি দাঁড়ানোর ক্ষমতা তাঁর নেই। সোনারপুরের মানুষ আজ বুঝিয়ে দিয়েছে যে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি আর ভয় দেখিয়ে বেশিদিন রাজত্ব করা যায় না। মানুষের এই ক্ষোভকে পুলিশ বা প্রশাসন দিয়ে দমানো যাবে না।” পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ঐতিহাসিক পরাজয়কে বাঙালিদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার লড়াই হিসেবে তিনি মনে করেন বলে জানিয়েছেন। তার দাবি, এবারও যদি তৃণমূল জিতত, তবে রক্তপাতের কোনো শেষ থাকত না। মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচতেই পারত না। আর জি কর কাণ্ডের পর যেভাবে তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ততকালীন শাসকদল, তার যোগ্য জবাব দিয়েছে বাংলার মানুষ।

রত্না দেবনাথের কথায়, “আমি অন্তত কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি যে আমি নবান্নের হীরক রানী-কে পতন ঘটাতে পেরেছি। আমি যে লক্ষ্যের দিকে একটু একটু করে এগোচ্ছি, যেটাকে আমি বলেছিলাম চুল ধরে পতন ঘটাবো, আজ তা সত্যি হয়েছে। ২০২৪ সালের অগস্টে আর জি করের সেমিনার রুমে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ব্যালট বক্সে তার জবাব দিয়েছে সাধারণ মানুষ। আর আজ সোনারপুরের রাস্তায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পরিণতি যেন সেই ক্ষোভেরই জ্বলন্ত বহিঃপ্রকাশ।” অর্থাৎ, রত্না দেবনাথের এই মন্তব্য পরিষ্কার করে দিচ্ছে—ক্ষমতার অহংকারে সাধারণ মানুষকে আর দমানো যাবে না। কারণ স্বৈরাচারের পতন অনিবার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *