সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন নারী-পুরুষ, কেউ বলছেন আমি বাংলাদেশি, কেউ বলছেন আমার ঘর খুলনায়…কিন্তু প্রশ্ন একটাই, যদি সবাই নিজ দেশের নাগরিক হন, তাহলে তাঁরা সীমান্তের দুই পাশে আটকে পড়লেন কেন? রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ–বাংলাদেশ সীমান্তের পানিশালা এলাকার কাছাকাছি ১৩৪ নম্বর পিলারের জিরো পয়েন্টে কয়েকজন মানুষকে দেখা যায়। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী BSF জানায়, ওই ব্যক্তিদের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্ব বা বৈধ প্রবেশের কোনো নথি ছিল না। ফলে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী BGB-এর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবি সামনে এসেছে—যার মধ্যে রয়েছে, কিছু মানুষকে রোহিঙ্গা বা অনিবন্ধিত হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ। আবার বাংলাদেশি মিডিয়া এদেরই ভারতীয় বলে দাবি করছে তারেক রহমান সরকারের ‘ন্যারেটিভের’ সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে। তবে ক্যামেরার সামনে এই সব অনুপ্রবেশকারীরা কান্নাকাটি করে স্বীকার করছেন, তাঁরা বাংলাদেশি। বাংলাশের কোথায় তাঁদের বাড়ি, তা নিয়েও বিশদ জানাচ্ছে তাঁরা। তা সত্ত্বেও এই সব বাংলাদেশিদের আবার ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজিবি।
এই আবহে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের কাছে গতকাল কেঁদে কেঁদে এক বাংলাদেশি মহিলা দাবি করেন, তাঁর শ্বশুরবাড়ি খুলনার দিঘলিয়ায়। তাঁর স্বামী অসুস্থ বলে চিকিৎসার জন্যে নাকি তিনি ভারতে এসেছিলেন। এখন বিএসএফ তাঁদের পুশব্যাক করে। তবে বিজিবির পায়ে পড়েও নাকি তাঁদের দেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। সেই মহিলা দাবি করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁদের বাংলাদেশি নথি নিয়ে আসতে পারে, তবে তার জন্য সময় লাগবে। এদিকে তিনি আরও দাবি করেন, বিজিবি নাকি তাঁদের রোহিঙ্গা বলে আখ্যা দিচ্ছে।
এদিকে আরও এক মহিলা দাবি করেন, অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ভারতে এসে আটকে পড়েছিলেন তিনি। তারপর সেখানেই সন্তানদের নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে সম্প্রতি বাড়িওয়ালা তাঁদের ভারত ছেড়ে চলে যেতে বলেন শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে। এই আবহে তাঁরা বাংলাদেশে ফিরতে চাইছে। তবে বিজিবি তাঁদের ঢুকতে দিচ্ছে না। দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীই অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র না থাকলে সাধারণ মানুষও আটকে পড়ে।