Their political poles are completely different.

তাঁদের রাজনৈতিক মেরু সম্পূর্ণ আলাদা… একদিকে বামপন্থী শিবির, অন্যদিকে বিজেপি

তিনি প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর স্ত্রী। বাম আমলের সাক্ষী। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসন দেখেছেন। আবার সিপিএম তথা বামেরা যে বিজেপির তীব্র বিরোধিতা করে এসেছে, সেই বিজেপিকে এখন রাজ্যে ক্ষমতায় দেখছেন। বিজেপি সবে একমাস রাজ্যে এসেছে। শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে এই একমাসে কেমন দেখলেন বুদ্বদেবের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য?

মীরা ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি এমন এক পরিবারের সদস্য যাঁদের নাম দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাই তাঁর মুখে নতুন সরকারের প্রশংসা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে। এটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত মতামত নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হল প্রশাসনিক গতি। সাধারণত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় নেয়। কিন্তু মীরা ভট্টাচার্যের মতে, সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের চেষ্টা করছে। এই দ্রুত পদক্ষেপই তাঁর প্রশংসার প্রধান কারণ।

রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাররা সাধারণত নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চান। যখন কোনও সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে, তখন মানুষের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা যায় যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলি শুধুমাত্র প্রচারের জন্য ছিল না। মীরা ভট্টাচার্যের বক্তব্য সেই জনমতেরই প্রতিফলন হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, কোনও সরকারের প্রকৃত মূল্যায়ন কয়েক দিনের কাজ দেখে করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের সাফল্য বা ব্যর্থতা বিচার করতে হলে দীর্ঘমেয়াদে তার নীতি, বাস্তবায়ন এবং ফলাফল দেখতে হয়। ফলে এই প্রশংসা সরকারের প্রাথমিক সক্রিয়তার স্বীকৃতি হলেও, চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত নয়। মীরা ভট্টাচার্যের মন্তব্য নতুন সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে। বিরোধী রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি পরিবারের সদস্যের মুখে এমন প্রশংসা সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয় যে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও প্রশাসনিক কর্মদক্ষতা অনেক সময় দলীয় সীমারেখা অতিক্রম করে স্বীকৃতি পেতে পারে।

নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বুদ্ধ-জায়া আরও বলেন, ‘মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের মতো পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই চালু করা হয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে, যিনি রাজ্যের কল্যাণে কাজ করেন, তিনি আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য। আমরা সকলেই চাই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য ও শান্তিতে বসবাস করুক।’ রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে বলতে গিয়ে মীরা ভট্টাচার্য বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমার কখনও দেখা করার সুযোগ হয়নি। তবে আমি আশাবাদী, তিনি তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করবেন ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *