পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে বড় আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করল কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার জন্য ১,০০০ কোটি টাকা এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে ৭০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই ঘোষণার পর রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সুখবর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্পে এবার নতুন গতি আসতে চলেছে।
তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্র রাজ্য সংঘাতে বহু প্রকল্প আটকেছিল। এবার ডবল ইঞ্জিন সরকার আসতেই সেই সব আটকে থাকা প্রকল্প চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলার গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এর ফলে বহু প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—বিভিন্ন জেলার দুর্গম এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের জন্য ৭০০ কোটিরও বেশি টাকা অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। প্রশাসনের দাবি, এই অর্থ বরাদ্দের ফলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং বহু প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি মাসের মধ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই বরাদ্দ কার্যকর হলে গ্রামের অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও গতি ফিরবে। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য এই বরাদ্দকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলেই এই ধরনের বড় আর্থিক বরাদ্দ সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন নিয়ে যে টানাপোড়েন ছিল, তা অনেকটাই কমেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই বরাদ্দ কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই স্পষ্ট হবে। তবে কেন্দ্রের এই ১,৭০০ কোটির প্যাকেজ যে রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন গতি যোগ করতে চলেছে, তা নিয়ে আশাবাদী প্রশাসন