বাংলার রাজনীতির এপিসেন্টার কালীঘাটে আজ যা ঘটল, তা সম্ভবত কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে হানা দিল সিআইডি-র এক বিশাল টিম। ৩০ জনেরও বেশি আধিকারিক আজ ঘিরে ফেললেন তৃণমূল সুপ্রিমোর বাসভবন এবং কেন্দ্রীয় পার্টি অফিস। বিধানসভার হাই-প্রোফাইল ‘সই জালিয়াতি’ কাণ্ডে এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দরজায় পৌঁছে গেল আইন। যে জালিয়াতির ছায়া এতদিন দলের নিচুতলায় ছিল, তা কি এবার খোদ শীর্ষ নেতৃত্বের ঘরের ভেতর? কেন রাতারাতি এই অভিযান? আর এই অভিযানে ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন বয়ান বুমেরাং হয়ে ফিরল?
গোটা ঘটনার সূত্রপাত সেই কুখ্যাত সই জালিয়াতি কাণ্ড নিয়ে। এই জালিয়াতির অভিযোগে তৃণমূলের অন্দরমহল এখন তাসের ঘরের মতো ভাঙছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারবার সিআইডি তলব করলেও তিনি হাজিরা দেননি। কিন্তু আইনের হাত থেকে পালানো কি এতই সহজ? সিআইডি সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বয়ান দিয়েছিলেন যে—বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়েছিল ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে। ব্যাস! নিজের পিঠ বাঁচাতে গিয়ে ভাইপো কি তবে পিসির ঘরকেই বিপদে ফেলে দিলেন? তাঁর সেই বয়ানের ওপর ভিত্তি করেই আজ দুপুর ৩:১৫ নাগাদ মহিলা আধিকারিকসহ সিআইডি-র টিম হানা দেয় কালীঘাটে।
পার্টি অফিসের গেটে আজ যেন এক টানটান উত্তেজনার ছবি! সিআইডি আধিকারিকরা যখন ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালাতে চান, তখন বাধা হয়ে দাঁড়ান আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী। তিনি নিজেকে কেয়ারটেকার দাবি করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে ব্যস্ত, তাই তাঁদের অনুপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো যাবে না।” সিআইডি-র সাথে আইনজীবীর তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। আধিকারিকরা যখন পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে তাঁরা সরকারি কাজে এসেছেন, তখন আইনজীবী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন— দু’দিন পর আসুন। প্রশ্ন উঠছে—যাঁরা নিজেদের ‘সাদা ধুতি’ আর ‘স্বচ্ছ ভাবমূর্তি’র বড়াই করতেন, আজ পুলিশের তল্লাশিতে তাঁদের এত ভয় কেন? কেন ঘরের দরজা খুলতে এত অনীহা?
নেতানেত্রীরা যখন দিল্লিতে বসে জোটের স্বপ্ন দেখছেন, তখন তাঁদের গড় কিন্তু আজ কেন্দ্রীয় বাহিনী আর পুলিশে থিকথিক করছে। সিআইডি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে—কাজে বাধা দেওয়ার ফল ভালো হবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই তল্লাশি চালানো জরুরি বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অর্থাৎ, দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের হাত ধরেই আজ সিআইডি পৌঁছে গেল দলের হৃৎপিণ্ডে। জালিয়াতি করে আর কতদিন সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া যাবে? ক্ষমতার দম্ভ আজ কালীঘাটের অলিতে-গলিতে ধুলোয় মিশছে।
বাংলায় সুশাসনের নতুন সূর্য উদিত হতেই চোরদের পালানোর পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সই জালিয়াতি হোক বা চাকরি চুরি—প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। আইন আজ কারও ঘরের কেনা গোলাম নয়, আইন আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে কালীঘাটের দুয়ারে। আপনার কী মনে হয়? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্যই কি শেষ পর্যন্ত পিসির ঘরের বিপদ বাড়িয়ে দিল? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত অবশ্যই জানান।