Not blue and white—the color of Nabanna has changed.

নীল সাদা নয়, নবান্নের রং বদলে গেল! কেন নীল সাদা রং করা হয়েছিল? সরকারের পালাবদল হতেই সব পরিবর্তন

প্রশাসনিক ভবনের রং পরিবর্তনকে সাধারণত একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হয়। কারণ, ক্ষমতার পরিবর্তনের পরে নতুন সরকার অনেক সময় নিজেদের ভাবধারা ও পরিচয় তুলে ধরতে বিভিন্ন প্রতীকী পদক্ষেপ নেয়। নবান্নের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনে সেই পরিবর্তন আরও বেশি নজর কাড়ে।

গত পনেরো বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। সরকার, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট প্রতীক ও রঙ মানুষের মনে জড়িয়ে গিয়েছিল। তাই নতুন সরকার এলে সেই পুরনো প্রতীকের জায়গায় নতুন প্রতীক তুলে ধরার চেষ্টা স্বাভাবিক বলেই অনেকে মনে করেন।নবান্নের সভাগৃহে গেরুয়া ও সাদা রঙের ব্যবহারকে অনেকে নতুন সরকারের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। ভারতের রাজনীতিতে গেরুয়া রঙ দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দুত্ববাদী ও বিজেপি ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই পরিবর্তন শুধুমাত্র সৌন্দর্যায়নের কাজ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে অন্য দিক থেকে দেখলে, কোনও নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে প্রশাসনিক ভবনগুলির সংস্কার বা পুনর্গঠন করতেই পারে। নতুন রং, নতুন সাজসজ্জা বা নতুন কর্মপদ্ধতি আনার মাধ্যমে তারা নিজেদের কাজের ধরণকে আলাদা করে তুলে ধরতে চায়। ফলে বিষয়টিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক চশমায় দেখলেও পুরো ছবিটা ধরা নাও পড়তে পারে।এই পরিবর্তনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব। সাধারণ মানুষ যখন প্রশাসনিক ভবনের চেহারায় বদল দেখতে পান, তখন তাঁদের মনে নতুন সরকারের উপস্থিতি ও সক্রিয়তার একটি ধারণা তৈরি হয়। অর্থাৎ রং বদল অনেক সময় মানুষের কাছে পরিবর্তনের দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ক্ষমতা পরিবর্তনের পরে শুধু নীতি নয়, প্রতীকও বদলায়। রাস্তার নাম, প্রকল্পের নাম, সরকারি ভবনের সাজসজ্জা সব ক্ষেত্রেই নতুন সরকার নিজেদের ছাপ রেখে যেতে চায়। নবান্নের রং পরিবর্তন সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। নবান্নে রং বদল প্রশাসনিক দৃষ্টিতে একটি সাধারণ কাজ হলেও রাজনৈতিক দৃষ্টিতে তা অনেক বড় বার্তা বহন করছে। এটি যেন শুধু দেওয়ালে নতুন রঙের প্রলেপ নয়, বরং নতুন সরকারের আগমন, নতুন রাজনৈতিক পরিচয় এবং নতুন প্রশাসনিক সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

বাংলায় এই নীল-সাদা রঙের আমদানি ঘটেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানার একেবারে শুরুর দিনগুলিতে। এমনটা নয় যে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীকের সঙ্গে নীল-সাদার কোনও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেনা নীল পাড় সাদা শাড়ির সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এই রঙ বাছা হয়েছিল বলে মনে করা হতো। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, শুধু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনই নয়, সমস্ত নিয়ম-নীতি, বিজ্ঞান-ভাবনা ও বাস্তবতাকে একপ্রকার জলাঞ্জলি দিয়ে রাস্তার রোড ডিভাইডারের রঙও করে দেওয়া হয়েছিল নীল-সাদা।

বাংলার ক্ষমতা থেকে তৃণমূল যেতেই এবার উলোটপুরাণ শুরু হল। বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, নবান্নের নীল সাদা রঙ চোখ সওয়া হয়ে গেলেও তাতে পেশাদারি ভাবের অভাব ছিল। গেরুয়া ও সাদা রঙ করলেও তা কতটা ভাল দেখাবে তা
সময়ই বলবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *