আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার তদন্ত পুনরায় খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হতেই একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ফের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠছে। তদন্তকারীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রত্না দেবনাথ দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় শুধুমাত্র সরকারি ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হওয়া সম্ভব নয়। ঘটনার পর থেকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াতেই একাধিক অসঙ্গতি ছিল বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি মনে করেন, সেই সমস্ত বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি তদন্তকারীদের পানিহাটি শ্মশানে যাওয়াকেও তিনি সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, অনেক অজানা তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হিসেবে রত্না দেবনাথ দাবি করেন, এই ঘটনায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা থাকতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপোর নামও এই ঘটনায় উঠে আসা উচিত। যদিও তাঁর এই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি বা তদন্ত সংস্থার নিশ্চিত বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। তবুও তাঁর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
নির্যাতিতার মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি এবং তাঁর স্বামী হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁরা মেয়ের দেহ দেখতে পাননি বলে অভিযোগ। এরপর তাঁরা টালা থানায় যান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার জন্য। সেখানেই তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। এই ঘটনার ব্যাখ্যা এখনও স্পষ্ট নয় বলে মনে করছেন তিনি।
রত্না দেবনাথের অভিযোগ, টালা থানায় তাঁদের প্রায় দুঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট তথ্য তাঁদের দেওয়া হয়নি বলেও দাবি। তিনি বলেন, একজন অসহায় মা-বাবা হিসেবে তাঁদের চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকতে হয়েছিল। কেন তাঁদের দেহের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা উচিত বলেও মত প্রকাশ করেছেন।
আরও গুরুতর অভিযোগ করে তিনি বলেন, ওই সময় তাঁদের মেয়ের দেহ বাড়ির সামনে প্রায় বেওয়ারিশ লাশের মতো অবস্থায় পড়ে ছিল। পরিবারের কাউকে যথাযথভাবে জানানো বা পাশে রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর। এই পরিস্থিতিকে তিনি অমানবিক এবং অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন। প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার প্রতিটি ধাপ পুনরায় পর্যালোচনার কথাও বলেছেন।আরজি কর কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যেই নির্যাতিতার মায়ের নতুন অভিযোগ মামলাটিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই অভিযোগগুলিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে, এখন সেদিকেই নজর সবার। সত্য উদঘাটনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। নতুন তদন্তে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।