বাঙালির প্রাণের উৎসব, শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে এবার আন্তর্জাতিক স্তরে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার! ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতির পর এবার বিশ্বমঞ্চে দুর্গাপুজোর ব্র্যান্ডিংকে আরও শক্তিশালী করতে এক বিশাল এবং সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নবান্ন। বিশ্বের আনাচে-কানাচে বাংলার এই ঐতিহ্যকে পৌঁছে দেওয়া এবং বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পর্যটককে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে টেনে আনাই এবার প্রধান লক্ষ্য। রাজ্যের নতুন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের এই মেগা ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে পর্যটন মহলে। কীভাবে সাজানো হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে বৈঠকে কোন বড় চমক আসতে চলেছে? জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।
এদিন এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানান, দুর্গাপুজোকে কেবল একটি আঞ্চলিক উৎসবের গণ্ডিতে আটকে না রেখে, একে সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের একটি মেগা ফেস্টিভ্যাল হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বর্তমান সরকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে এই সংস্কৃতির আবেদন পৌঁছে দিতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে প্রচার মাধ্যম। এই প্রসঙ্গে পর্যটনমন্ত্রী এক অত্যন্ত চমৎকার উদাহরণ টেনে বলেন—
“আমরা চাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ বাংলার দুর্গাপুজো সম্পর্কে জানুক। আমাদের রাজ্যের বহু মানুষ যেমন ব্রাজিল বা ফ্রান্সের নানা ঐতিহ্যবাহী উৎসব সম্পর্কে দারুণভাবে অবগত, ঠিক তেমনভাবেই বাঙালির এই শ্রেষ্ঠ উৎসবের প্রচার এবার আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”
এই মেগা ক্যাম্পেইনে বিদেশি ভ্রমণকারীদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অনাবাসী ভারতীয়দেরও যুক্ত করার এক অভিনব ভাবনা রয়েছে সরকারের।
এই বিশ্বজনীন প্রচার অভিযানকে বাস্তবায়িত করতে অত্যন্ত দ্রুত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক হাইপ্রোফাইল বৈঠকে বসতে চলেছেন পর্যটনমন্ত্রী। নবান্নের এই মেগা বৈঠকেই চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে পারে বিশ্বমানের ‘দুর্গাপুজো কার্নিভ্যাল’ আয়োজনের রূপরেখায়। তবে শুধু পুজোই নয়, আগামী ৫ বছরের পর্যটন উন্নয়নকে পাখির চোখ করে একটি অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ও পেশাদার কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে শঙ্কর ঘোষের মন্ত্রক।
নতুন সরকারের এই মহাপরিকল্পনার মূল স্তম্ভগুলি কী কী জানেন? আসুন সহজ তালিকায় দেখে নেওয়া যাক:
কেন্দ্রীয় ডেটাবেস: পর্যটন ক্ষেত্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সমস্ত হোটেল, ট্রাভেল এজেন্ট, গাইড এবং ব্যবসায়ীদের সমস্ত তথ্য নিয়ে একটি ডিজিটাল সেন্ট্রাল ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে।
সরকারি প্রচার: এই ডেটাবেসে নথিভুক্ত সমস্ত সংস্থাকে সরাসরি সরকারি প্রচারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও লাভবান হন।
পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার: আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে সমগ্র পূর্ব ভারতের মূল প্রবেশদ্বার বা ‘গেটওয়ে’ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে ব্র্যান্ডিং করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পিপিপি (PPP) মডেল: পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ তথা পিপিপি মডেলের মাধ্যমে পর্যটন পরিকাঠামোর আমূল উন্নয়ন ঘটিয়ে এই শিল্পে বিপুল বিনিয়োগ আনার পৃথক পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটর্সের মতে, নতুন সরকারের এই সুদূরপ্রসারী ও দূরদর্শী পরিকল্পনা বাংলার ঝিমিয়ে পড়া পর্যটন খাতকে এক ধাক্কায় চাঙ্গা করে তুলবে। এর ফলে শুধু যে কর্মসংস্থান বাড়বে তা নয়, রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এক বিরাট জোয়ার আসবে। তোষণ ও রাজনীতির রঙ সরিয়ে রেখে বাংলার সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে শ্রেষ্ঠ আসনে বসাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগ সত্যিই এক নতুন এবং প্রগতিশীল বাংলার ইঙ্গিত দেয়।
ব্রাজিল-ফ্রান্সের মতো বাংলার দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্তরে ব্র্যান্ডিং করার এবং ৫ বছরের এই মেগা ট্যুরিজম প্ল্যান নিয়ে আপনার মতামত কী? কমেন্ট জানান আপনার মূল্যবান জানান।