Indian Army parade on foreign soil—this time in Seychelles!

বিদেশের মাটিতে এবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ! প্রধান অতিথি হিসেবে থাকছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী!

আজ সেশেলসের স্বাধীনতার ৫০তম জাতীয় দিবস। আর এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি বা ‘গেস্ট অফ অনার’ হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ এই অনুষ্ঠানের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ মার্চিং কন্টিনজেন্ট অংশ নিয়েছে। এই কন্টিনজেন্টে রয়েছে আসাম রেজিমেন্টের ৩২ জন বাছাই করা সৈনিক। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্যাপ্টেন আরিয়ান এইচ. দেওলেকর। শুধু সেনাবাহিনীই নয়, ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি মার্চিং কন্টিনজেন্ট এবং একটি সামরিক ব্যান্ডও এই কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এই অংশগ্রহণ শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ নয়। বরং এটি ভারত ও সেশেলসের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতীক। ভারত ও সেশেলসের সম্পর্ক বহু দশকের পুরনো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বর্তমানে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্য—প্রায় সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে উঠেছে।

বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সেশেলস ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, জলদস্যু দমন, সামুদ্রিক নজরদারি এবং মানবিক সহায়তাসহ একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশ নিয়মিত একসঙ্গে কাজ করছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জাতীয় দিবসে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা আরও গভীর হয়, সামরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হয়।

এটি অবশ্য ভারতের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। ২০২৩ সালে ফ্রান্সের বাস্তিল দিবসের কুচকাওয়াজে, ২০২১ সালে বাংলাদেশের বিজয় দিবস উদযাপনে এবং ২০১৫ ও ২০২০ সালে রাশিয়ার বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতীয় সেনারা অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। আজ সেশেলসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ভারতের এই উপস্থিতি আবারও স্পষ্ট করে দিল যে, ভারত শুধু একটি আঞ্চলিক শক্তিই নয়, বরং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করছে। এখন দেখার বিষয়, এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও সেশেলসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও কতটা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত সমীকরণে এর কী প্রভাব পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *