ক্ষমতা হারাতেই জনসমাজের আড়ালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী! রাজনীতি ও প্রশাসনের দীর্ঘ চার দশকে নজিরবিহীন ঘটনা!

দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনে যা কখনো দেখা যায়নি, ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম স্বাধীনতা দিবসে ঠিক তেমনই এক নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর দৃশ্যের সাক্ষী থাকল সমগ্র বাংলা। বিরোধী নেত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী— গত ৪০ বছর ধরে প্রতিবার ১৪ই অগাস্ট মধ্যরাতের ‘মিড নাইট ফ্রিডম’ পালন এবং ১৫ই অগাস্টের সকালে তেরঙ্গা উত্তোলনকে কার্যত নিজের ধরাবাঁধা রুটিনে পরিণত করে ফেলেছিলেন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ক্ষমতার মসনদ হাতছাড়া হতেই এবার স্বাধীনতা দিবসের কোনো একটি কর্মসূচিতেও সশরীরে দেখা গেল না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে।

অথচ এর আগের ইতিহাস অন্য কথা বলে। কোভিডের ভয়াবহ মহামারী কিংবা বেহালার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারি— কোনো প্রতিকূল অবস্থাতেই কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন থেকে পিছিয়ে আসেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি গত মে মাসে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর নিজের কালীঘাটের বাড়ির উঠোনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু এবার তপসিয়ার পুরনো তৃণমূল ভবনে দোলা সেন বা কুণাল ঘোষেরা যখন পতাকা উত্তোলন করছেন, কিংবা নিজের বাড়ির উঠোনে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী জাতীয় পতাকা তুলছেন— সেখানেও সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন মমতা।

এই আত্মগোপন বা কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি দলের প্রবীণ নেতারাও। বিধানসভার তৃণমূল পরিষদীয় দলের একাংশ ও বিরোধী শিবির থেকে কটাক্ষ করে বলা হচ্ছে— স্বাধীনতা দিবস একটি জাতীয় উৎসব, যা অন্তর থেকে উদযাপিত হয়, ক্ষমতা থাকার বা না থাকার ওপর তা নির্ভর করে না। এবার যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রেড রোডে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছেন এবং সিপিএম কার্যালয়ে বিমান বসু বা মহম্মদ সেলিমেরা সগর্বে জাতীয় পতাকা তুলেছেন— সেখানে ক্ষমতার বাইরে গিয়েই স্বাধীনতা দিবসের চেনা ফ্রেম থেকে পুরোপুরি উধাও হয়ে যাওয়া সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে এখন জোর জল্পনা ও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *