কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের এক ঐতিহাসিক ও রাজকীয় মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করলেন রাজ্যের মা-বোনেদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি যোগ্য মহিলা উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী সবুজ সংকেত দেওয়ার পর ইতিমধ্যেই রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি পদ্ধতিতে টাকা পৌঁছানোর কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ আবেদনপত্র নিখুঁতভাবে যাচাই করার পর প্রথম দফাতেই ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এই খুশির খবরের মাঝেও বহু মা-বোনের মনে একটি বড় প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে যে, যাঁরা এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের টাকা পাননি, তাঁরা ঠিক কী করবেন বা তাঁদের করণীয় কী? নবান্ন এবং প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে যে, যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের আবেদনপত্র খুঁটিয়ে দেখা, পরিচয়পত্র ভেরিফিকেশন এবং ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট যাচাই করার পরেই টাকা জমা দেওয়ার কাজ চলছে। যদি আপনার দেওয়া তথ্যে কোনও সামান্য ভুলভ্রান্তি থাকে বা ব্যাঙ্কের সাথে নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি এখনও সম্পূর্ণ না হয়ে থাকে, তবেই আপনার পেমেন্ট পেতে কিছুটা দেরি হতে পারে। তাই আপনার আবেদনটি ঠিক কোন স্তরে আটকে রয়েছে, তা সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সহজে নিজেদের মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের সাহায্যেই ঘরে বসে পরীক্ষা করে নিতে পারবেন।
এই স্ট্যাটাস চেক করার জন্য আবেদনকারীকে নিজের প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র এবং ফর্মে দেওয়া সচল মোবাইল নম্বরটি হাতের কাছে রাখতে হবে। প্রথমে উপভোক্তাকে রাজ্য সরকারের অফিশিয়াল সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে হোমপেজে থাকা “সিটিজেন লগইন” বা “চেক স্ট্যাটাস” অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট বক্সে আপনার নথিভুক্ত থাকা ১০ সংখ্যার মোবাইল নম্বরটি টাইপ করলে সেখানে একটি গোপন ওটিপি নম্বর আসবে। সেই ওটিপি-টি দিয়ে সাবমিট করার পর, নির্দিষ্ট পোর্টালে আপনার সরকার নির্ধারিত ১২ সংখ্যার অনন্য পরিচয়পত্র নম্বর অর্থাৎ আধার নম্বরটি দিয়ে সার্চ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
এই সহজ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করার সাথে সাথেই আপনার কম্পিউটারের স্ক্রিনে বা মোবাইলের ডিসপ্লেতে আবেদনকারীর নাম, অ্যাপ্লিকেশান আইডি এবং বর্তমান স্ট্যাটাসটি পরিষ্কারভাবে ভেসে উঠবে। সেখান থেকেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার আবেদনটি অনুমোদিত বা অ্যাপ্রুভড হয়েছে, নাকি সেটি এখনও পেন্ডিং অবস্থায় রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী ঘোষণা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দেয় যে, যোগ্য কোনো মা-বোনই এই সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। সামান্য কারিগরি বা নথি সংক্রান্ত ত্রুটিগুলো মিটে গেলেই খুব দ্রুত বাকিদের অ্যাকাউন্টেও টাকা পৌঁছে যাবে।