Spending 30 consecutive days in jail could mean losing one's ministerial post or the Chief Minister's chair! The opposition camp is reeling from the Modi government's masterstroke of a constitutional amendment.

টানা ৩০ দিন জেলে থাকলেই হারাতে হবে মন্ত্রিত্ব বা মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি! মোদী সরকারের সংবিধান সংশোধনীর মাস্টারস্ট্রোকে কাঁপছে বিরোধী শিবির !

দেশের রাজনীতি এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাংবিধানিক কাঠামোয় এক যুগান্তকারী ও অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার। রাজনৈতিক অলিন্দের খবর অনুযায়ী, আসন্ন বাদল অধিবেশনেই বহুচর্চিত ‘সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিল’ পাশ করানোর জন্য চূড়ান্ত তোড়জোড় শুরু হতে পারে। দুর্নীতি এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে কোনো জনপ্রতিনিধি যদি টানা ৩০ দিন বা তার বেশি সময় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে অর্থাৎ শ্রীঘরে কাটান, তবে তিনি আর কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনো রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী পদে বহাল থাকতে পারবেন না; স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে সেই পদ থেকে অপসারিত হতে হবে— এই কঠোর প্রস্তাবই আনা হয়েছে এই নতুন বিলে।

গত বছর এই বিলটি সংসদে পেশ করার সময় বিরোধী দলগুলির প্রবল আপত্তির জেরে এটিকে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটি বা জেপিসি-র কাছে পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, আসন্ন বাদল অধিবেশনের শুরুতেই সেই কমিটি তাঁদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে চলেছে এবং তার পরপরই সরকার এই বিলটি নিয়ে সংসদে আলোচনার রাস্তা খুলে দেবে।
তবে যেহেতু এটি একটি সাধারণ বিল নয়, বরং সংবিধান সংশোধনী বিল, তাই এটি আইন হিসেবে পাশ করাতে গেলে লোকসভা ও রাজ্যসভা— উভয় কক্ষেই উপস্থিত এবং ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের বিপুল সমর্থন প্রয়োজন।

এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে এখন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হলো সংসদের আসন সংখ্যার রাজনৈতিক সমীকরণ। গত বছর এই বিল পেশ হওয়ার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে জল বয়ে গেছে অনেক দূর, যার ফলে এনডিএ শিবিরের শক্তি আগের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ জন সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে এনডিএ জোটকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে লোকসভায় উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা শিবিরে ধস নামিয়ে ছয়জন সাংসদ যোগ দিয়েছেন একনাথ শিণ্ডের সাথে, যার ফলে লোকসভায় এনডিএ-র আসন সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৩০-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

একই রকম শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে উচ্চকক্ষ অর্থাৎ রাজ্যসভাতেও। আম আদমি পার্টির সাতজন সাংসদ ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেওয়ায় ২৪২ সদস্যের রাজ্যসভায় এনডিএ-র নিজস্ব সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১। এর সাথে মনোনীত এবং নির্দল সদস্যদের সমর্থন মেলালে সেই সংখ্যা অনায়াসেই ১৫১ পার করে যাচ্ছে। যদিও সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে এনডিএ এখন অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, তবুও সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশের সেই জাদুকরী সংখ্যার থেকে তারা লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় জায়গাতেই সামান্য পিছিয়ে রয়েছে।

আর ঠিক এই জায়গাতেই চরম নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে দেশের একাধিক প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল। অতীতেও বিজু জনতা দল কিংবা ওয়াইএসআর কংগ্রেসের মতো দলগুলি জাতীয় স্বার্থে এবং একাধিক জটিল আইন পাশের ক্ষেত্রে সরকারকে সমর্থন জুগিয়েছে। এবারও দেশের সর্বোচ্চ পদের স্বচ্ছতা বজায় রাখার এই লড়াইয়ে আঞ্চলিক দলগুলি কী ভূমিকা নেয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে এই ঐতিহাসিক বিলের ভবিষ্যৎ। যদি এই বিল সফলভাবে পাশ হয়ে যায়, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন ও দুর্নীতিমুক্ত অধ্যায়ের সূচনা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *