Suvendu Adhikari's unprecedented move regarding the Baruipur incident! Chief Minister Suvendu Adhikari himself visits the victim's home!

বারুইপুর কাণ্ডে শুভেন্দু সরকারের নজিরবিহীন পদক্ষেপ! নির্যাতিতার ঘরে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী !

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরের ধপধপি এলাকায় এক নাবালিকাকে নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি যেমন তোলপাড়, ঠিক তেমনই অপরাধ দমনে এক নজিরবিহীন ও কঠোরতম প্রশাসনিক তৎপরতার সাক্ষী থাকল গোটা পশ্চিমবঙ্গ।

রবিবার সকালে পুকুর থেকে ওই নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই সুবিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ রাস্তা ও রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই, তোষণের রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে অপরাধীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে বিদ্যুৎগতিতে সক্রিয় হয়েছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। ঘটনার গুরুত্ব ও ভয়াবহতা অনুধাবন করে রবিবার বিকেলেই মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই তদন্তের ভার একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। ছয় সদস্যের এই চৌকস টিম মাঠে নামার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অপরাধী আনন্দ সর্দারসহ তিন নরপিশাচকে লোহার গরাদের পেছনে পুরে ফেলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী নিজে নির্যাতিতার শোকার্ত বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই ধরণের জঘন্যতম অপরাধের ক্ষেত্রে তিনি নিজে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের সপক্ষে সরব হয়েছেন।

বাংলার মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এরপর আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব। সোমবার বিকেলেই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরের ধপধপিতে নিহতের জরাজীর্ণ বাড়িতে পৌঁছে যান এবং পরিবারের সদস্যদের বুকে টেনে নিয়ে আইনি লড়াইয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের আগেই বিজেপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিহত শিশুর বাড়িতে গিয়ে সান্ত্বনা জানায়, যার নেতৃত্বে ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায় ও মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অগ্নিমিত্রা পাল অত্যন্ত কড়া সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, নরপিশাচদের আড়াল করার কোনো চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না এবং তদন্তের কোনো স্তরে যদি পুলিশের বিন্দুমাত্র গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বারুইপুরের এই পৈশাচিক ঘটনাটি ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যার জেরে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। দেশের নারী সুরক্ষার স্বার্থে কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের ডিজিপি-কে জরুরি চিঠি পাঠিয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। বিশেষ করে ঘটনার পর ধপধপি এলাকায় যে চরম উত্তেজনা ও গণপিটুনির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই আইনশৃঙ্খলার বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে কমিশন।

বিগত আমলের মতো অপরাধীদের আড়াল করার নোংরা খেলাকে চিরতরে বন্ধ করে, শুভেন্দু অধিকারীর জিরো টলারেন্স নীতিতে যেভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তদের ধরা হয়েছে, তাতে এখন রাজ্যবাসীর নজর ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের বিচার প্রক্রিয়া এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই নরপিশাচদের দ্রুত ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়ে বাংলার নারী সমাজকে এক নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ উপহার দিতে নতুন সরকার যে কতটা দায়বদ্ধ, এই ঘটনা আজ তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *