The government is now offering a loan of ₹10 lakh, with ₹5 lakh being completely free! The state government’s ‘Udyam Credit Card’ has arrived for small business owners!

এবার সরকার দেবে ১০ লাখের লোন, যার মধ্যে ৫ লাখ পুরো ফ্রি !ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য চলে এলো রাজ্য সরকারের ‘উদ্যম ক্রেডিট কার্ড’ !

পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে এক নতুন ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে এবং রাজ্যের ছোট ব্যবসায়ী ও বেকার যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এক ঐতিহাসিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। বিগত দিনে বাংলায় শিল্প ও কর্মসংস্থানের যে খরা তৈরি হয়েছিল, তা চিরতরে দূর করে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সদ্য সমাপ্ত বাজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে ‘বাংলা উদ্যম ক্রেডিট কার্ড’ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই দূরদর্শী ও জনকল্যাণমুখী চিন্তাভাবনার ফসল হলো এই বিশেষ স্কিম, যার মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের লাখ লাখ বেকার যুবক-যুবতীকে নতুন কোনো ব্যবসা, স্টার্টআপ কিংবা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তুলতে সরাসরি আর্থিক যোগান দেওয়া। এই প্রকল্পের অধীনে নতুন উদ্যোক্তারা নিজেদের ব্যবসাকে সফলভাবে দাঁড় করানোর জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে সর্বমোট ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ঋণ বা আর্থিক সহায়তা পেয়ে যাবেন।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও মানবিক দিকটি হলো এর বিপুল সরকারি ভর্তুকি এবং সহজ শর্তাবলী। সাধারণ মানুষকে যাতে চড়া সুদের ফাঁদে পড়তে না হয়, তার জন্য ১০ লক্ষ টাকার ঋণের মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থাৎ সরাসরি ৫ লক্ষ টাকা নন-রিফান্ডেবল ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হবে, যা উপভোক্তাকে আর কোনোদিনও সরকারকে ফেরত দিতে হবে না। বাকি ৫ লক্ষ টাকার ঋণটি দেওয়া হবে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত হিসেবে। ফলে নতুন ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত সুদের কোনো বাড়তি বোঝা চাপবে না।

ব্যবসা পুরোপুরি চালু হয়ে যাওয়ার পর অত্যন্ত সহজ কিস্তিতে বা ইএমআই-এর মাধ্যমে এই সুদমুক্ত ঋণের টাকা পরিশোধ করার সুবর্ণ সুযোগ থাকছে। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে, যার মাধ্যমে প্রথম দফাতেই রাজ্যের প্রায় ২ থেকে ৫ লক্ষ তরুণ-তরুণী সরাসরি উপকৃত হতে চলেছেন। এর চেয়েও বড় স্বস্তির বিষয় হলো, এই ঋণ পাওয়ার জন্য কোনো ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো সোনা-গয়না কিংবা স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখার কোনো প্রয়োজন পড়বে না, যা ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সাথে সরাসরি যুক্ত করে দ্রুত ডানা মেলতে সাহায্য করবে।

এই স্বপ্নের প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সঙ্গত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং তাঁর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। বর্তমানে কর্মহীন বা বেকার যুবক-যুবতী, নতুন উদ্যোগ শুরু করতে ইচ্ছুক তরুণ প্রজন্ম কিংবা স্বাবলম্বী হতে চাওয়া মহিলা ব্যবসায়ীরা এই ঋণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। আবেদনকারীদের অবশ্যই একটি ভালো সিবিল স্কোর থাকতে হবে এবং আবেদনের সময় তাঁরা ঠিক কী ধরণের ব্যবসা শুরু করতে চান, তার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা বা বিজনেস প্ল্যান সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।

যদিও এই প্রকল্পের আবেদনের জন্য এখনো বিস্তারিত নির্দেশিকা এবং অনলাইন পোর্টালের আনুষ্ঠানিক সূচনা বাকি রয়েছে, তবে অত্যন্ত দ্রুত একটি ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে যার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে। আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র হিসেবে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, বাসস্থানের শংসাপত্র, উদ্যম রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, বিজনেস প্ল্যান এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণী তৈরি রাখতে বলা হচ্ছে। তোষণের রাজনীতি বাদ দিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে স্বনির্ভরতার আলো পৌঁছে দিতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে রাজ্যকে শিল্পের আঙিনায় শ্রেষ্ঠ করে তুলতে শুভেন্দু সরকারের এই আন্তরিক ও বলিষ্ঠ প্রয়াস সত্যি এক নতুন সোনালী ভোরের দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *