পশ্চিমবঙ্গের স্কুল পড়ুয়াদের অসামান্য মেধা, সাহসিকতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে লুকিয়ে থাকা অসাধারণ কৃতিত্বকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরে সম্মানিত করার জন্য এক বিরাট ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ‘প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল্য পুরস্কার’-এর জন্য যোগ্য ও উপযুক্ত ছাত্রছাত্রীদের মনোনীত করতে পর্ষদের তরফ থেকে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই রাষ্ট্রীয় পুরস্কারের জন্য যাতে কোনো যোগ্য প্রতিভা বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি স্কুলের প্রধানদের কোমর বেঁধে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে, তাঁদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে থেকে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাদের অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চিহ্নিত করতে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ রাজ্যের স্কুল পড়ুয়াদের অন্দরে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
পর্ষদের নির্দেশিকা ও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সম্মানের জন্য আবেদন করতে গেলে ছাত্রছাত্রীদের বয়স আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অবশ্যই ১৮ বছরের কম হতে হবে। শিশুদের অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মূলত ছয়টি নির্দিষ্ট বিভাগে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে। বিভাগগুলো হলো— চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেখানোর জন্য ‘সাহসিকতা’, সমাজকে বদলে দেওয়ার মতো ‘সমাজসেবা’, পরিবেশ সচেতনতার জন্য ‘পরিবেশ সংরক্ষণ’, ক্রীড়া জগতের জন্য ‘খেলাধুলা’, সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ এবং আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’।
পর্ষদ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, প্রতিটি স্কুলকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে প্রার্থীদের নির্বাচন করতে হবে। বিশেষ করে ছাত্রী, আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান, তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত এবং বিশেষভাবে সক্ষম বা দিব্যাঙ্গ পড়ুয়াদের মধ্য থেকে আসল প্রতিভাকে খুঁজে বের করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই অসাধারণ উদ্যোগ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষক সমাজ এবং বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানিয়েছেন যে, এই ধরনের জাতীয় স্তরের উদ্যোগ বাংলার ছাত্রছাত্রীদের ভেতরের উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় হলেও, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি যেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয় এবং সঠিক তদারকির অভাবে কোনো যোগ্য বা প্রতিভাবান পড়ুয়া যেন এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। আগ্রহী ছাত্রছাত্রী বা সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষকে ‘প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল্য পুরস্কার’-এর জন্য আবেদন বা মনোনয়ন সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমা দিতে হবে। এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অফিশিয়াল পোর্টাল awards.gov.in-এ গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়াটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সম্পন্ন করতে হবে।
মনে রাখবেন, পর্ষদ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ৩১ জুলাই এই আবেদন বা মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত এই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর কোনো ধরণের আবেদন বা সুপারিশ আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। তো তোষণ ও অবহেলার দিন শেষ করে বাংলার মাটির আসল প্রতিভাদের দিল্লির দরবারে সম্মানিত করতে প্রশাসনের এই স্বচ্ছ ও বলিষ্ঠ প্রয়াস সত্যি এক নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে