পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ঘটে যাওয়া এক নাবালিকার মর্মান্তিক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অপরাধ দমনে এক বেনজির ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। তোষণ আর অপরাধীদের আড়াল করার পুরনো সংস্কৃতিকে চিরতরে কবর দিয়ে, বাংলায় যে প্রকৃত অর্থেই আইনের শাসন এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রতিষ্ঠা হয়েছে, তা মঙ্গলবারের এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া ও আপোষহীন প্রশাসনিক নির্দেশে পুলিশ প্রশাসন যখন অপরাধীদের দ্রুততম বিচারের জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে, ঠিক তখনই ঘটল এক নাটকীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্নির্মাণের জন্য মঙ্গলবার মাঝরাতে ধৃত এক অন্যতম প্রধান অভিযুক্তকে বারুইপুরের সূর্যপুরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু সেখানে গিয়েও নিজের অপরাধের স্বভাব না বদলে, রাত ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আচমকাই পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে ওই নরপিশাচ। শুধু তাই নয়, পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও চালায় সে। এমতাবস্থায় আত্মরক্ষার্থে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে পাল্টা গুলি চালায় শুভেন্দু সরকারের সাহসী পুলিশ বাহিনী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বাংলার মাটিতে অপরাধীদের বুক কাঁপিয়ে দেওয়া এই এনকাউন্টারের খবর যখন পুলিশের তরফ থেকে পৌঁছায় স্বয়ং মৃত অভিযুক্তের মায়ের কাছে, তখন তাঁর প্রতিক্রিয়া শুনে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা সমাজ। নিজের গর্ভজাত সন্তানের এই পৈশাচিক কীর্তি ও তার পরিণতির কথা শুনে বিন্দুমাত্র চোখের জল ফেলেননি সেই মা। উল্টে অত্যন্ত দৃঢ় ও স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর ছেলের সাথে যা হয়েছে, তা একদম ঠিক হয়েছে এবং খুব ভালো হয়েছে।
ছেলের কু-কর্মের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে সাফ জানান যে, ওই নরপিশাচের মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে আনতে তিনি নিজে তো যাবেনই না, এমনকি তাঁর পরিবার থেকেও কেউ ওই মুখ দেখতে যাবে না। একজন মায়ের এই সাহসী ও বিবেকদংশনহীন বয়ান আজ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, অপরাধীর পাপের মাত্রা কতখানি ভয়ঙ্কর ছিল।
অত্যন্ত আবেগঘন ও বিচারপ্রিয় গলায় মৃত অভিযুক্তের মা আরও বলেন যে, বারুইপুরের সেই ছোট্ট নিরপরাধ বাচ্চা মেয়েটি যেভাবে ছটফট করে চরম কষ্ট পেয়ে মরেছে, তাঁর ছেলেও আজ ঠিক সেইভাবেই মরেছে। তাই ছেলের এই চরম পরিণতিতে তাঁর মনে বিন্দুমাত্র কোনো দুঃখ বা অনুশোচনা নেই। ও যদি সুখে-শান্তিতে ভালো মানুষের মতো মরত, তবে মা হিসেবে হয়তো কষ্ট পেতেন, কিন্তু যে নরপিশাচ একটা শিশুর জীবন কেড়ে নেয়, তার এই শাস্তিই পাওনা ছিল। পুলিশ যা করেছে, একদম যোগ্য বিচার করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলার পুলিশ আজ যেভাবে অপরাধীদের ডানা ছাঁটতে এবং মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করছে, এই এনকাউন্টার তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। অতীতে যেখানে অপরাধীদের বাঁচাতে পুলিশকে ব্যবহার করা হতো, আজ শুভেন্দু অধিকারীর জমানায় সেই পুলিশই অপরাধীদের যমদূত হয়ে উঠেছে, যা বাংলার কোটি কোটি মানুষের মনে এক নিরাপদ ও সুরক্ষিত সমাজের আত্মবিশ্বাসকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।