বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ফের বাড়ছে তৎপরতা। সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এখন নতুন করে আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গ। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য মোট ১,০২৪.৭৫ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করার জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এই ঘোষণার রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। কারণ মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে জমি হস্তান্তর নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা এবং টালবাহানার কারণে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ বারবার আটকে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই জট কাটিয়ে দ্রুত জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেই দাবি করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি জমি হস্তান্তর হয়েছে মুর্শিদাবাদে। সেখানে ৪৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ইতিমধ্যেই ৩৩৭ একর জমি বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে। এরপর রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। প্রায় ৪২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ২৪১ দশমিক ৩ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। মালদায় দেওয়া হয়েছে ১৭৬ দশমিক ৭৮ একর জমি। কোচবিহারে হস্তান্তর হয়েছে ১৩৫ দশমিক ৩৩ একর। নদিয়ায় দেওয়া হয়েছে ৯৫ দশমিক ১১ একর। দক্ষিণ দিনাজপুরে ২৬ দশমিক ৪১ একর, উত্তর দিনাজপুরে ৬ দশমিক ৬১ একর, দার্জিলিংয়ে ৪ দশমিক ৩১ একর এবং জলপাইগুড়িতে ২ দশমিক ১৭ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ সীমান্তবর্তী প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ জেলাতেই জমি হস্তান্তরের কাজ এগিয়ে চলেছে। তবে এই ঘোষণার মধ্যেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার সুন্দরবন সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শনে যান বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। তিনি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারির গ্রিড এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। শুধু প্রশাসনিক বৈঠকই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন বিএসএফের ডিজি। সীমান্তে বসবাসকারী মানুষের অভিজ্ঞতা, সমস্যার কথা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাস্তব পরিস্থিতিও তিনি জানার চেষ্টা করেন।
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ হলে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ অনেক সহজ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যেসব প্রকল্প আটকে ছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত এগোতে পারে। রাজনৈতিক দিক থেকেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের সম্পর্ক, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং পূর্ববর্তী সরকারের ভূমিকা—সবকিছু নিয়েই আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। এখনও বহু জায়গায় প্রকৌশলগত, পরিবেশগত এবং প্রশাসনিক নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই প্রকল্পের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন নির্ভর করবে পরবর্তী কাজ কত দ্রুত এগোয় তার উপর।