Trinamool had withdrawn it; upon coming to power, Suvendu Adhikari restored security to Buddhadeb Bhattacharjee's wife.

তৃণমূল কেড়ে নিয়েছিল, ক্ষমতায় এসেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রীকে নিরাপত্তা ফেরালেন শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও আসতে শুরু করেছে নতুন বার্তা। এবার সেই তালিকায় যোগ হল একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের জন্য ফের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক মহলে সৌজন্যের নজির বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রয়াত হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯এ নম্বরের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতো বসবাস করে আসছেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। তবে মীরা দেবীর জীবনযাত্রায় কোনও জৌলুস আসেনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করছেন, যা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবনেরও অন্যতম পরিচয় ছিল।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর তৎকালীন রাজ্য সরকার ওই ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই অবস্থান বদলাতে চলেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খুব শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে।গত মে মাসে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বার্তা হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।

সরকার পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসনকে স্বাগতও জানিয়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মতভেদ সত্ত্বেও নতুন সরকারের কয়েকটি উদ্যোগের প্রশংসা করেছিলেন মীরা ভট্টাচার্য। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিবেশের উন্নতি হবে, ২০১১ সালের আগের মতো সিন্ডিকেটমুক্ত পরিস্থিতি ফিরবে এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি সরকার বাস্তবায়ন করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপকে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে মতাদর্শের সংঘাত স্বাভাবিক, কিন্তু সেই সংঘাতের মধ্যেও ব্যক্তিগত সম্মান, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা এবং রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই রাজনৈতিক পরিপক্বতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
তবে অন্য একাংশের বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। বিরোধী শিবিরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন একদিকে যেমন সৌজন্যের বার্তা দেয়, তেমনি এটি রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্বও তুলে ধরে। যদিও এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে, তবুও সৌজন্যের এই দৃষ্টান্ত বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *