femal-self-defence-class in school

এবার ঘরে ঘরে তৈরি হবে ‘রানি লক্ষ্মীবাঈ’! ছাত্রীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ মিলবে সরকারি  স্কুলের ক্লাসরুমেই

একের পর এক নারী ও নাবালিকার উপর নির্যাতনের ঘটনায় যখন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। এবার ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের স্কুলেই দেওয়া হবে আত্মরক্ষার বিশেষ প্রশিক্ষণ। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে শুরু হতে চলেছে ‘রানি লক্ষ্মীবাঈ আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ’। অর্থাৎ, বিপদের মুহূর্তে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে, কীভাবে নিজেকে আক্রমণকারীর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে—তারই হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাবেন ছাত্রীরা।

অভয়াকাণ্ড থেকে কালিয়াগঞ্জ, বারুইপুরে নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতন ও খুন—একাধিক ঘটনায় উত্তাল হয়েছে রাজ্য। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন বারবার উঠছে প্রশ্ন, তখন স্কুলস্তর থেকেই আত্মরক্ষার পাঠ দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি শনিবার স্কুলের ক্লাস শেষ হওয়ার পর ৪০ থেকে ৬০ মিনিট ধরে চলবে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ। শুধু আত্মরক্ষার কিছু কৌশল নয়, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কীভাবে নিজেকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে হবে—সেই বিষয়েও তৈরি করা হবে ছাত্রছাত্রীদের।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭ কোটি ৬০ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা। রাজ্যের প্রায় ১৫ হাজার ২১১টি স্কুলে চালু হবে এই প্রশিক্ষণ। প্রতিটি স্কুলে থাকবেন একজন করে নোডাল শিক্ষক। প্রশিক্ষণের আয়োজন, ক্লাসের সময়সূচি এবং পুরো ব্যবস্থার তদারকির দায়িত্ব থাকবে তাঁর উপর। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পেশাদার প্রশিক্ষক বাছাই করা হবে। শারীরশিক্ষা বা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত উপযুক্ত প্রশিক্ষকদেরও এই কাজে যুক্ত করার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র স্কুলের শিক্ষক নয়—প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত পেশাদারদের কাছ থেকেও আত্মরক্ষার কৌশল শিখবে ছাত্রীরা।

উদ্দেশ্য একটাই—বিপদের মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে এই উদ্যোগ শুধু স্কুলের ছাত্রীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেও ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। সরকারি ও সরকার পোষিত কলেজগুলির প্রিন্সিপাল, টিচার ইনচার্জ এবং উপাচার্যদের নিয়মিত বৈঠকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে অন্তত একটি বৈঠকে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথাও জানানো হয়েছে। সরকারের এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্কুলগুলিতেও শুরু হয়েছে প্রস্তুতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *