বিশ্বের দরবারে দাঁড়িয়ে যে দেশ সকাল-সন্ধ্যা সন্ত্রাস রপ্তানি করে, যাদের মাটিতে বছরের পর বছর ধরে আশ্রয় পায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিরা— তাদের মুখেই কিনা আবার সন্ত্রাস বিরোধিতার বড় বড় বুলি! নিজেদের সীমাহীন অপরাধের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে ভারতকে কূটনৈতিক ফাঁদে ফেলার এক চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল এক পাকিস্তানি সাংবাদিক। কিন্তু যাকে নিশানা করা হয়েছিল, তিনি আর কেউ নন— ভারতের দুঁদে ও স্পষ্টবক্তা বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর! নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে সাংবাদিক বৈঠকের লাইভ ক্যামেরার সামনেই সেই পাক সাংবাদিকের নোংরা চালকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে মুখের ওপর এমন এক সপাটে চড় কষালেন জয়শঙ্কর, যা দেখে গোটা বিশ্বের কূটনৈতিক মহল কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেল!
ঘটনাটি ঘটে রাষ্ট্রসংঘে বন্ধুদেশগুলির যৌথ সমুদ্র সুরক্ষা সংক্রান্ত এক আন্তর্জাতিক বৈঠকের পর। যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন লাইবেরিয়ার বিদেশমন্ত্রী সারা বেসোলো নয়ান্তি। সেই প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত এক পাকিস্তানি সাংবাদিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভারতকে অপমান করার লক্ষ্যে অত্যন্ত ধূর্ত ও তির্যক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেন— “দক্ষিণ এশিয়া আর কতদিন নিউদিল্লি, কাবুল ও পাকিস্তান সৃষ্ট সন্ত্রাসের মুখোমুখি হবে?”
ভারতের মতো সন্ত্রাসের শিকার হওয়া এক শান্তিপূর্ণ দেশকে পাকিস্তানের সমগোত্রীয় বানানোর এই চরম ধৃষ্টতা শুনে এক মুহূর্তের জন্যও মেজাজ হারাননি জয়শঙ্কর, বরং নিজের স্বভাবসুলভ তীক্ষ্ণ বাণে সেই সাংবাদিককে ছিন্নভিন্ন করে দেন। বিস্মিত ও তীব্র কটাক্ষের সুরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী মুখের ওপর জবাব দেন— “আপনি সম্পূর্ণ ভুল মানুষকে এই প্রশ্নটা করছেন! আমি এমন কোনো মন্ত্রী নই যিনি এই প্রশ্নের উত্তর জানবেন। এই উত্তর জানতে হলে আপনাকে পাকিস্তানের মন্ত্রীদের কাছে যেতে হবে। তাঁরাই আপনাকে স্পষ্ট বলতে পারবেন যে ঠিক কতদিন তাঁরা এই সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার কাজটা চালিয়ে যাবেন! আপনিই বরং বলুন, পাকিস্তান ঠিক কতদিন এই সন্ত্রাসবাদকে নিজেদের মাটিতে পুষে রাখবে?”
এখানেই থেমে থাকেননি বিদেশমন্ত্রী। পাক সাংবাদিকের কপটতার মুখোশ পুরোপুরি টেনে ছিঁড়ে তীব্র বিরক্তি ও ক্ষোভের সুরে জয়শঙ্কর সরাসরি বলে ওঠেন— “একটা সন্ত্রাসবাদী দেশের প্রতিনিধি হয়ে আপনি আমাকে এই প্রশ্ন করছেন? সত্যিই আশ্চর্য!”
কার্গিল যুদ্ধ থেকে শুরু করে পহেলগাঁও হামলা— ভারতীয় উপমহাদেশের বুকে নাশকতা ছড়াতে ইসলামাবাদের ভূমিকা যে কতটা গভীর, ভারত তা বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তথ্যপ্রমাণ সহ তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে সীমান্তপারের জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের যে চরম গাত্রদাহ শুরু হয়েছিল, রাষ্ট্রসংঘের এই নোংরা প্রশ্নের মাধ্যমে তা ফের একবার নগ্ন হয়ে পড়ল। পাক সাংবাদিককে আর এক চুলও কথা বাড়ানোর সুযোগ না দিয়ে পাশে থাকা রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতানেনি সটান জানিয়ে দেন— “আশা করি আপনি আপনার প্রশ্নের অত্যন্ত জোরালো ও সুস্পষ্ট জবাব পেয়ে গিয়েছেন!” আন্তর্জাতিক কূটনীতির ময়দানে ভারতকে কোণঠাসা করতে এসে যেভাবে গোটা বিশ্বের সামনে পাকিস্তানের মুখ পুড়ল, তা প্রমাণ করে দিল— নতুন ভারতের বিদেশনীতির সামনে পাকিস্তানের কোনো ধূর্ত চালই আর টিকবে না!