রাজ্যে ক্ষমতার রদবদলের পর সাধারণ মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সচল রাখা হয়েছে আবাসন প্রকল্প। পূর্বতন ‘বাংলার বাড়ি’ নাম বদলে বর্তমান সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনা’ নাম দিয়ে ইতিমধ্যই প্রায় ১০ লক্ষ যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পাঠানো শুরু করেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের যে লাখ লাখ প্রকৃত পাকা বাড়িহীন ও দরিদ্র পরিবার এখনও কোনো সরকারি সাহায্য পাননি, তাঁরা ঠিক কবে পাবেন এই পশ্চিমবঙ্গ আবাসের ঘর তৈরির টাকা? এই দুশ্চিন্তা মেটাতে নবান্ন ও রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের তরফে এক বড় ও স্বস্তিদায়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজ্য জুড়ে চলা আবাস প্লাস সমীক্ষায় ইতিমধ্যেই প্রায় ২৩ লক্ষ এমন পরিবারকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মাথা গুঁজবার মতো কোনো পাকা আশ্রয় নেই। আর যাতে কোনো প্রকৃত গৃহহীন মানুষ সরকারি এই অনুদান থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য আগামী ১৫ই আগস্টের মধ্যে এই সমীক্ষা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সময় অত্যন্ত কম থাকায় সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা ভেবে এবার পঞ্চায়েত দফতরের মাধ্যমে চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘সেলফ সার্ভে’ পদ্ধতি। অর্থাৎ এখন আর সরকারি দপ্তর বা পঞ্চায়েত অফিসে চক্কর কাটার কোনো প্রয়োজন নেই, যোগ্য নাগরিকরা নিজেদের ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিজস্ব তথ্য জমা করতে পারবেন।
এই সেলফ সার্ভে প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে আবেদনকারীদের স্মার্টফোনে ডাউনলোড করে নিতে হবে ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ অ্যাপটি। সেই অ্যাপ খুললেই নির্ধারিত তথ্যাদি ও প্রশ্নাবলীর উত্তর দিয়ে গৃহহীন পরিবারগুলো নিজেদের নাম সহজে নথিভুক্ত করতে পারবেন। অনলাইনে নাম নথিভুক্তির এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই সরকারি আধিকারিকেরা সরাসরি আবেদনকারীদের বাড়িতে পৌঁছে যাবেন এবং জমাকৃত তথ্যাদি সরেজমিনে যাচাই করে নেবেন। পঞ্চায়েত দফতরের স্পষ্ট নির্দেশনা— কোনো স্বজনপোষণ বা স্বার্থান্বেষী চক্রান্ত ছাড়াই আগামী ১৫ই আগস্টের মধ্যে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার তালিকা নিশ্চিত করতে হবে। যাচাইকরণ শেষ হলেই ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গ আবাসের বরাদ্দ টাকা। তো ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রকৃত দরিদ্র ও আশ্রয়হীন মানুষের হাতে পাকা ছাদ তুলে দেওয়ার এই সময়োপযোগী প্রয়াস রাজ্যজুড়ে লাখ লাখ পরিবারের মনে এক নতুন আশার আলো ফুটিয়ে তুলেছে।