ভয়াবহ বন্যায় যখন প্রতিবেশী অসম বিপর্যস্ত, তখন ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

প্রকৃতির ভয়াবহ রোষে বিপর্যস্ত প্রতিবেশী রাজ্য অসম। টানা বৃষ্টি আর বন্যায় একের পর এক জেলা জলমগ্ন। ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা। অসম সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ অগস্ট পর্যন্ত এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩-এ। এই কঠিন পরিস্থিতিতেই অসমের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অসমকে দেওয়া হবে ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য।

তিনি জানিয়েছিলেন, বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অসমকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেই এই সিদ্ধান্ত। আর এবার সেই ঘোষণা শুধু ঘোষণাতেই আটকে থাকল না। বাস্তবে অসম সরকারের হাতে পৌঁছে গেল ১০ কোটি টাকা। এই সাহায্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। পাল্টা কৃতজ্ঞতা জানান শুভেন্দুও। অর্থাৎ বিপদের সময়ে দুই রাজ্যের মধ্যে সহযোগিতার বার্তাই উঠে এল সামনে।

তবে শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, রাজ্যের মানুষের স্বার্থে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে তৈরি করা হবে একটি করে ‘সেবা কেন্দ্র’। এই কেন্দ্রগুলির পরিচালনা ও পরিষেবা কার্যক্রমের জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে অসমে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। চলতি বর্ষায় একাধিক জেলায় আকস্মিক বন্যায় কার্যত হাহাকার পড়ে গিয়েছে। বহু ঘরবাড়ি জলের তলায় চলে যাওয়ায় মানুষকে নিরাপদ জায়গা ও ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জলবন্দি এলাকাগুলিতে এখনও চলছে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ।

গত ১৯ জুলাই থেকে শিবসাগর, চড়াইদেও এবং জোরহাট জেলায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ত্রাণ, সাহায্য এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসম সরকার। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব পেতেও শুরু হয়েছে বিশেষ সমীক্ষা। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৯৬০ জন সমীক্ষক ৮ হাজার ৩২৫টি পরিবারের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন। শুরু হয়েছে সমীক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও। সরকারের লক্ষ্য, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা শেষ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *