রাজ্যের পড়ুয়াদের জন্য বড় ঘোষণা। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ১২ লক্ষ ৫১ হাজারের বেশি পড়ুয়ার হাতে সাইকেল তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে ‘সারথি’ প্রকল্পে। শুধু সাইকেল বিতরণ নয়, পড়ুয়াদের সুবিধা থেকে শুরু করে পিছিয়ে পড়া পরিবারের যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণ, এমনকী পাঠাগার ব্যবস্থাতেও একাধিক পরিবর্তনের কথা সামনে এসেছে।
এবার একটু খোলসা করে বলা যাক।
‘সারথি’ প্রকল্পে এবার সাইকেলের গুণমান ও নিরাপত্তার উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মডেলের ক্র্যাশ টেস্টিং এবং সূক্ষ্ম ভিজ্যুয়াল ইন্সপেকশনের পরেই ছাড়পত্র দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর হাওড়ার ব্যাটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হওয়ার কথা। সেখানে প্রতীকীভাবে ৭৫ জন পড়ুয়ার হাতে কমলা রঙের সাইকেল তুলে দেওয়া হবে। এরপর প্রথম ধাপে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ২ লক্ষ ১০ হাজার সাইকেল বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচন চলা মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুর এই প্রথম ধাপের বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আর পুরো প্রক্রিয়াটাই থাকবে ডিজিটাল নজরদারির আওতায়। ব্লক, পুরসভা এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সাইকেল বিতরণের কাজ পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এবার নজর দেওয়া হচ্ছে সামাজিক সুরক্ষা এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার দিকেও।
জাল জাতিগত শংসাপত্রের ব্যবহার বন্ধ করতে পুনরায় যাচাইয়ের কথা জানানো হয়েছে। বিশেষ করে তপশিলি জাতি ও উপজাতির তালিকায় এই যাচাই প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য, প্রকৃত যোগ্য প্রাপকদের কাছেই যেন সংশ্লিষ্ট সুবিধা পৌঁছয়।
পাশাপাশি OBC-A এবং OBC-B নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে একটি একক OBC শংসাপত্র চালুর পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। ফলে শংসাপত্র সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সরলীকরণের দিকে এগোতে চাইছে সরকার।
এবার আসি যোগ্যশ্রী প্রকল্পের কথায়। পিছিয়ে পড়া পরিবারের পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করার জন্য এই প্রকল্পের পরিসর বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। শুধু প্রচলিত প্রশিক্ষণ নয়, বর্তমান শিল্প ও বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্কিল ডেভেলপমেন্টের দিকেও জোর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি বাজেট নথিতেও ২০২৬-২৭ সালে যোগ্যশ্রীর আওতায় SC/ST পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
আর পড়াশোনার পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক করতে এবার পাঠাগারগুলিকেও ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনা। প্রথম পর্যায়ে জেলা, মহকুমা এবং গ্রামীণ স্তরের ৫০০টি গুরুত্বপূর্ণ পাঠাগারকে এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, একদিকে পড়ুয়াদের স্কুলে যাতায়াতের সুবিধা, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, তার সঙ্গে শংসাপত্র ব্যবস্থার সংস্কার এবং পাঠাগারকে ডিজিটাল করার পরিকল্পনা—একসঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে পরিবর্তনের বার্তা সামনে এসেছে।
এখন দেখার, ঘোষিত এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং এর সুফল কতটা পৌঁছয় পড়ুয়া ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে।