নভেম্বরেই হতে পারে কলকাতা পৌরসভার নির্বাচন আর তার আগেই পুরভোটের ময়দানে বড়সড় প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য বিজেপি। কলকাতার দুই বিধায়ককে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুনীল বানসাল, সুকান্ত মজুমদার, অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ফলে পুরভোটকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে যে তৎপরতা তুঙ্গে, তা কার্যত স্পষ্ট।
শুধু বৈঠকেই থেমে থাকছে না বিজেপি। কলকাতা পুরসভাকে পাখির চোখ করে এবার গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিটি। সেই কমিটির শীর্ষে রয়েছেন তাপস রায়। তাঁর সঙ্গে দায়িত্বে থাকছেন সজল ঘোষ, রীতেশ তিওয়ারি, স্বপন দাশগুপ্ত-সহ বিজেপির একাধিক নেতা ও কার্যকর্তা। অর্থাৎ কলকাতার অলিগলি থেকে ভোটের অঙ্ক সবকিছুকে সামনে রেখেই তৈরি হচ্ছে গেরুয়া শিবিরের রণকৌশল।কোন বিষয়গুলিকে সামনে রেখে প্রচার চালানো হবে, জনসংযোগ কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই রণকৌশলও ঠিক করা হবে।
বিজেপি সূত্রের খবর, কলকাতা পুর এলাকার যে নেতারা দীর্ঘদিন ধরে মাটি কামড়ে সংগঠন করেছেন এবং এলাকার খুঁটিনাটি হাতের তালুর মতো চেনেন, তাঁদেরই বিশেষ কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন ওয়ার্ডে কী সমস্যা, কোথায় সংগঠন শক্তিশালী, কোথায় দুর্বল সবকিছুর হিসাব কষেই তৈরি হবে ভোটের কৌশল। এবার বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে বিশেষ জোর দিতে চাইছে বিজেপি। শুধু মঞ্চে সভা কিংবা বড় বড় প্রচার নয়, সরাসরি মানুষের দরজায় পৌঁছে যাওয়ার পরিকল্পনা । নাগরিক পরিষেবা, রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, জঞ্জাল সমস্যা থেকে শুরু করে পুর পরিষেবার খুঁটিনাটি ইস্যুকেই প্রচারের হাতিয়ার করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
নভেম্বরেই যদি ভোটের ঘণ্টা বেজে যায়, তাহলে হাতে সময় খুব বেশি নেই। তাই সময় নষ্ট না করে এখন থেকেই ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠনকে চাঙ্গা করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিজেপির লক্ষ্য একটাই কলকাতার পুরভোটে তৃণমূলকে ফের বড় ধাক্কা দেওয়া। তাই প্রশ্ন
উঠছে বিধানসভা ভোটের পর কলকাতার পুরময়দানে কি নতুন সমীকরণ তৈরি হবে? ফের একবার ফাটল ধরাতে পারবে বিজেপি? নাকি খেলা ঘুরে যাবে? নভেম্বরের সম্ভাব্য পুরভোট ঘিরে এখন থেকেই কলকাতার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেল টানটান উত্তেজনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন বিধানসভা আর পুরভোটের লড়াই এক নয় পুরভোটে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন, নাগরিক পরিষেবা এবং স্থানীয় ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিজেপির সামনে সুযোগ তৈরি হলেও তৃণমূল যদি দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে পুর-সংগঠনকে সক্রিয় করে এবং শহরের স্থানীয় সমস্যাগুলিকে সামনে রেখে প্রচারে নামে, তাহলে লড়াই ফের জমে উঠতে পারে। তাই কলকাতার বদলে যাওয়া রাজনৈতিক মাটিতে তৃণমূল কতটা দ্রুত নিজেদের পুরনো শক্তি পুনর্গঠন করতে পারে সেটাই দেখার। তবে বিজেপি কি সেই সুযোগ দেবে?